সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদের বিদেশের ২৯৭ বাড়ি ও ৩০ অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক । ঢাকা
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিদেশে পাচারকৃত অর্থের বিশাল ‘সাম্রাজ্য’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ ৮টি দেশে ছড়িয়ে থাকা তার মালিকানাধীন ২৯৭টি বাড়ি এবং ৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের ঐতিহাসিক আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিনিয়োগ করা এক কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২২ কোটি টাকা) অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৮ দেশে জাবেদের সম্পদের খতিয়ান
আদালতের আদেশে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাবেদ ও তার পরিবারের নামে থাকা ৩৩০টি স্থাবর সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে। যার মোট বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। দেশভিত্তিক জব্দের তালিকায় রয়েছে:
কম্বোডিয়া: সর্বোচ্চ ১১৭টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই): ৫৯টি বিলাসবহুল বাড়ি ও ফ্ল্যাট।
মালয়েশিয়া: ৪৭টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট।
যুক্তরাষ্ট্র: ৪০টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট (মূল্য প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকা)। এছাড়া ‘তানায়িম প্রোপার্টিজ’ ও ‘জেডটিএস প্রোপার্টিজ’ নামক দুটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ১ কোটি ডলার অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
থাইল্যান্ড: ব্যাংককে অবস্থিত ২৩টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট।
ভিয়েতনাম: ৪টি বাড়ি ও ৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট।
ভারত: ৯টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট।
ফিলিপাইন: রাজধানী ম্যানিলায় ২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।
৪ কোটি শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ
একই দিনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ছয়জনের নামে থাকা মোট ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫টি শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দেন। এর মাধ্যমে দেশে থাকা তার ব্যবসায়িক মালিকানাও আইনি নিয়ন্ত্রণে চলে এলো।
যেভাবে এলো এই আদেশ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মশিউর রহমান এবং সিআইডির আবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের পক্ষে শুনানিতে জানানো হয়, মন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে তিনি এই বৈশ্বিক সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এর আগে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (ঘঈঅ) সহযোগিতায় লন্ডনেও তার ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪-২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে আল জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তার বৈদেশি সম্পদের চিত্র ফুটে উঠলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঠিক আগমুহূর্তে তিনি সপরিবারে লন্ডনে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে আত্মগোপনে থাকলেও তার বিরুদ্ধে দেশে অর্থপাচার ও দুর্নীতির একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।



