অপরাধঅব্যাবস্থাপনাদুর্নীতি

১৮ কোটি মানুষের হক নিশ্চিতের আহ্বান: কর ফাঁকি রোধে কঠোর হচ্ছে এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক । ঢাকা

বাংলাদেশের বিত্তশালী শ্রেণির একটি বড় অংশের হাতে সঞ্চিত বিপুল অর্থের পেছনে দরিদ্র মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কর বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, নিয়মতান্ত্রিক কর ফাঁকি এবং দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে দেশের সাধারণ ও নি¤œআয়ের মানুষের ওপর।

বিত্তশালীদের কর ফাঁকির প্রবণতা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে বর্তমানে খুব সামান্য সংখ্যক ব্যবসায়ী ও উচ্চবিত্ত ব্যক্তি রয়েছেন যারা সততার সাথে কর পরিশোধ করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রভাব খাটিয়ে বা আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এই বৈষম্য দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে তুলছে।

হয়রানিমুক্ত কর ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, যারা স্বেচ্ছায় ও স্বচ্ছভাবে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে চান, তাদেরও নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কর দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে সাধারণ করদাতারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কর ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা গেলে এই হয়রানি অনেকাংশেই কমে আসবে।

জনকল্যাণে করের অর্থের সঠিক ব্যবহার সচেতন মহলের মতে, কেবল কর আদায় করলেই হবে না, সেই অর্থের যথাযথ ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। উন্নয়নমূলক কাজে করের অর্থের দৃশ্যমান ও সঠিক ব্যবহার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কর প্রদানের আগ্রহ কমছে। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থকে ‘গরিবের হক’ হিসেবে বিবেচনা করে তা জনকল্যাণে ব্যয় করার দাবি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কর ফাঁকি রোধে কঠোর দাওয়াই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কর ফাঁকিদাতাদের কঠোর আইনের আওতায় আনা জরুরি। তাদের মতে:

সৎ করদাতাদের জন্য বিশেষ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বৃদ্ধি করতে হবে। যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে কর দেন না, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক সুবিধা সীমিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, কর ব্যবস্থা যদি দুর্নীতিমুক্ত ও সহজ হয়, তবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button