দুর্নীতি

২৬ কোটির অবৈধ সম্পদ ও ‘লেয়ারিং’ জালিয়াতি: সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক । বগুড়া

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন এবং দুর্নীতির অর্থ আড়াল করতে আত্মীয়দের নামে সম্পদ হস্তান্তরের (লেয়ারিং) অভিযোগে সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলন ও তার স্ত্রী শাহাজাদী আলম লিপিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুদকের বগুড়া জেলা কার্যালয়ে এই মামলাগুলো রুজু করা হয়।

বোনদের মাধ্যমে সম্পদ ‘লন্ডারিং’
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মামলার একটিতে হামিদুল আলমের সাথে তার তিন বোন—আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা ও শিরিন শবনমকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, হামিদুল আলম দুর্নীতির টাকায় নিজের নামে সম্পদ না কিনে বোনদের নামে দলিল করেন। পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এড়াতে ‘হেবা দলিলের’ মাধ্যমে সেই বিপুল সম্পত্তি পুনরায় নিজের নামে হস্তান্তর করে নেন, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দ-নীয় অপরাধ।

১৯ কোটির তথ্য গোপন, ২৬ কোটির অবৈধ সম্পদ
স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শাহাজাদী আলম লিপি দুদকের কাছে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপন করেছেন। এছাড়া স্বামীর সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত মোট ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ ভোগদখলে রাখার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই দম্পতি দুর্নীতির অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে বারংবার সম্পদের রূপান্তর ও স্থানান্তর বা ‘লেয়ারিং’ করেছেন।

আইনি ধারা ও কঠোর ব্যবস্থা
আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এবং দ-বিধির ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের মামলা নম্বর-২ হিসেবে এটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও পতন
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শাহাজাদী আলম লিপি বগুড়া-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে সময় নির্বাচনি প্রচারণায় স্বামীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করায় হামিদুল আলমকে ২০২৪ সালের শুরুতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলে বর্তমানে হামিদুল আলম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button