অপরাধঅব্যাবস্থাপনাদুর্নীতি

৩৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি শনাক্তে ভাটা: খোদ ‘ডিআইএ’ সিন্ডিকেটের কবজায়!নিজস্ব প্রতিবেদক । ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সারাদেশের প্রায় ৩৯ হাজার এমপিওভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যে দপ্তরের, সেই ‘পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর’ (ডিআইএ)-ই এখন গভীর সংকটে। একদিকে দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা, অন্যদিকে একশ্রেণির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ঘুষ সিন্ডিকেটের কারণে ঝিমিয়ে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি শনাক্তকরণ কার্যক্রম।

মাঠপর্যায়ে অনুপস্থিত, অফিসে ‘খোশগল্প’ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডিআইএ-এর অধিকাংশ কর্মকর্তা এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যাওয়ার চেয়ে অফিসে আড্ডা ও তদবিরে বেশি সময় ব্যয় করছেন। বিগত বছরগুলোর তুলনায় গত এক বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। ফলে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, জাল সনদ শনাক্তকরণ এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধের কাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মাঝেমধ্যে পরিদর্শনে গেলেও একশ্রেণির কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘সব ঠিক আছে’ মর্মে দায়সারা প্রতিবেদন দাখিল করছেন।

যেভাবে চলে ‘ঘুষ বাণিজ্য’: বদল হয়েছে কৌশল ২০১৭ সালে ঘুষসহ এক কর্মকর্তা হাতেনাতে গ্রেফতার হওয়ার পর ডিআইএ-এর ঘুষ নেওয়ার ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়:
ভীতি প্রদর্শন: প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রথমে নিয়োগ ও প্রশাসনিক দুর্বলতা খুঁজে বের করে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চাকরিচ্যুতির আতঙ্ক ছড়ানো হয়।

গোপন চুক্তি: রেস্ট হাউস বা অন্য কোনো গোপন স্থানে বসে ঘুষের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
তৃতীয় পক্ষ: সরাসরি টাকা না নিয়ে ঢাকা বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনো অজ্ঞাত স্থানে তৃতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করা হয়।

অফিসেই অডিট: অনেক ক্ষেত্রে সশরীরে না গিয়েই অফিসে বসে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার অভিযোগও রয়েছে। বদলি বাণিজ্য ও সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব ডিআইএ-তে কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ৬ থেকে ৮ মাস কর্মরত পাঁচ কর্মকর্তাকে তড়িঘড়ি বদলি করা হলেও, ২০১৮ সাল থেকে সাত বছর ধরে বহাল তবিয়তে আছেন এক প্রভাবশালী সহকারী পরিদর্শক।

এই বৈষম্য এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে জুনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, জানা গেছে, একাধিক শিক্ষা পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শকের বিরুদ্ধে দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে। এমনকি এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মৌখিক প্রমাণ পেয়ে ডিআইএ পরিচালক তাকে সতর্কও করেছেন। তবে এসকল প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সার্বিক বিষয়ে জানতে ডিআইএ-এর পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে দপ্তরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সেখানে পরিদর্শন ও নিরীক্ষার নামে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতে এবং কেউ টাকা দাবি করলে অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button