কারা অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্যের ‘অধিপতি’ জাকির রিয়াল: নেপথ্যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক । ঢাকা
কারা অধিদপ্তরে কর্মকর্তাদের বদলি বাণিজ্য এবং পদায়ন নিয়ে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে নাম উঠে এসেছে ডেপুটি জেলার মো. জাকির হাসান রিয়ালের। বর্তমানে অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল সিকিউরিটি ইউনিটে (পিএসইউ) কর্মরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রমতে, জাকির হাসান রিয়াল বিগত আওয়ামী শাসনামলের একজন কট্টর সমর্থক এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তিনি কাশিমপুর কারাগার থেকে রাজবাড়ী কারাগারে বদলি হন। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে ভোল পাল্টে ফেলেন। কয়েক মাসের ব্যবধানে দুবার রহস্যজনক বদলির মাধ্যমে তিনি পুনরায় কারা অধিদপ্তরের অত্যন্ত লোভনীয় ‘পিএসইউ’ (প্রিন্সিপাল সিকিউরিটি ইউনিট) পদের দায়িত্ব বাগিয়ে নেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তাকে কখনো দুর্গম বা প্রান্তিক কোনো কারাগারে দায়িত্ব পালন করতে হয়নি; অদৃশ্য শক্তিবলে তিনি সবসময় অধিদপ্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জাকির হাসান রিয়াল সারাদেশের কারাগারগুলোতে কর্মকর্তাদের বদলি করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘ঘুষের রেট’ নির্ধারণ করেছেন।
পছন্দসই বদলি: ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং কাশিমপুর (১-৪) এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ‘লাভজনক’ কারাগারগুলোতে বদলির জন্য তিনি আড়াই থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করেন।
মাসোয়ারা আদায়: দেশের বিভিন্ন কারাগারে কর্মরত পিএসইউ সদস্যদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ‘মাসোয়ারা’ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাকির রিয়ালকে নিয়মিত মাসোয়ারার টাকা জোগান দিতে গিয়ে অনেক সাধারণ কারা সদস্য কারাগারে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক সিনিয়র জেল সুপারও এই সিন্ডিকেটের ভয়ে কিংবা সুবিধার ভাগ পেয়ে তাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। কারা বিভাগের প্রতিটি অলিগলি এবং আইনি ফাঁকফোকর সম্পর্কে জ্ঞান থাকায় তিনি নিজেকে প্রায় ‘অস্পৃশ্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত এবং দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা কামানো এমন একজন কর্মকর্তা কীভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন, তা নিয়ে কারা বিভাগে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে জাকির হাসান রিয়ালের অবৈধ সম্পদের তদন্ত করা হোক এবং বদলি বাণিজ্যের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হোক।



