রাজনীতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ: আগামীর চ্যালেঞ্জ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন সরকার ও মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের মিত্ররা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। কিন্তু রাজনীতির এই নতুন অধ্যায়ে প্রকৃত পরীক্ষা কেবল শুরু হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট এস এম আওলাদ হোসেন তার সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন, নির্বাচন কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি নয়, এটি জনগণের সঙ্গে এক ধরণের ‘রাজনৈতিক চুক্তি’—যার মূল ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা।

গণতান্ত্রিক আস্থা পুনর্গঠন: প্রথম চ্যালেঞ্জ

বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে নতুন সংসদকে প্রমাণ করতে হবে যে এটি কেবল সংখ্যার সংসদ নয়, বরং সত্যিকারের জনগণের সংসদ। নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে নানা বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিরোধী মতের জন্য সংসদে কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে বড় পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ যদি একমুখী হয়ে পড়ে, তবে গণতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

দলীয়করণ বনাম রাষ্ট্রচিন্তা

প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এই বিশ্লেষণে। লেখক মনে করেন, রাষ্ট্রযন্ত্র যদি দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা ভঙ্গ হয়। নতুন মন্ত্রিসভার সামনে বড় বার্তা হলো—প্রতিপক্ষকে শত্রু না ভেবে নীতিগত দ্বিমতকে সম্মান জানানো এবং রাষ্ট্রচিন্তাকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাজনীতির মেলবন্ধন

বর্তমান বাস্তবতায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, বরং এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি। জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন না হলে রাজনৈতিক বৈধতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সচেতন জনতা ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ

আজকের ডিজিটাল যুগে নাগরিক সমাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনীতির প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন নয়, বরং বিকেন্দ্রীকরণই আগামীর নিরাপদ পথ হতে পারে। ত্রয়োদশ সংসদ কি সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা দেখাবে, নাকি দমনের পথে হাঁটবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সবশেষে বলা হয়েছে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু জনগণের রায় চূড়ান্ত। দেশবাসীর প্রত্যাশা—নতুন সংসদ ‘দল নয়, দেশ আগে’ এই নীতিতে পরিচালিত হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button