রাজউক কর্মকর্তা পলাশ সিকদারের ‘আলাদিনের চেরাগ’: বেতন ৩৪ লাখ, সম্পদ ৫ কোটির!

নিজস্ব প্রতিবেদক । ঢাকা
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অথরাইজড অফিসার পলাশ সিকদারের বিরুদ্ধে বেতন-ভাতার চেয়ে বহুগুণ বেশি সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৫ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তার মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার বিষয়টি এখন টক অব দ্য টাউন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত পলাশ সিকদার বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৩৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৮১ টাকা আয় করেছেন। অথচ এই সময়ের মধ্যে তিনি গাড়ি, বাড়ি ও জমিসহ প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ তাঁর আয়ের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪ গুণ বেশি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পলাশ সিকদারের পরিবার একসময় ভূমিহীন ছিল এবং সরকারি জমি বন্দোবস্ত পেয়ে জীবনযাপন করত। অথচ পলাশ রাজউকে যোগদানের পর থেকেই তাঁদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়।
গ্রামের বাড়ি: পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি।
বোনের বাড়ি: মেজো বোনের নামে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও একটি দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
বাবার সম্পদ: বাবার নামে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে কিনেছেন ১ একর ২৫ শতাংশ জমি। এছাড়া বাবার ইউপি নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পলাশ সিকদার ঢাকা শহরে ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি হ্যারিয়ার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৭-৭৯০২) ব্যবহার করেন। যদিও বিআরটিএ-র রেকর্ড অনুযায়ী গাড়িটি আফসানা মরিয়ম নামে এক নারীর নামে নিবন্ধিত। দুদকের ধারণা, এটি একটি বেনামি সম্পদ। এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শ্যালকের নামে ৫ কাঠার প্লটে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন তিনি।
রাজউক সূত্রে জানা গেছে, পলাশ সিকদারের আয়ের প্রধান উৎস ছিল নকশা অনুমোদন ও ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে ব্যাপক দালালি। অর্থের বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূত নকশা অনুমোদনের অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি একটি দশতলা ভবনের নকশা জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
গুরুতর এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে বর্তমানে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাসের নেতৃত্বে তাঁর সম্পদের উৎস ও ব্যাংক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পলাশ সিকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।



