অপরাধদুর্নীতি

দনিয়া-মাতুয়াইল ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের গডফাদার কর্মকর্তা সঞ্জীব ও আসাদুজ্জামান

মামুন খান

দেশের সরকারি ভূমি অফিসগুলোতে হয়রানি ও দুর্নীতি কমাতে সরকার নানা পদক্ষেপ ও সেবার ডিজিটালাইজেশন করলেও, দনিয়া-মাতুয়াইল ভূমি অফিস যেন এখনও দুর্নীতির এক অভেদ্য দুর্গ হিসেবেই রয়ে গেছে। এই অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছেন এক শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেটের কাছে। আর এই সিন্ডিকেটের মূল ‘গডফাদার’ বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে অভিযোগের আঙুল উঠেছে খোদ ওই অফিসের কর্মকর্তা সঞ্জীব ও আসাদুজ্জামানের দিকে।

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, ভিডিও প্রতিবেদন ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে উঠে এসেছে দনিয়া ও ডেমরা-মাতুয়াইল ভূমি অফিসের এই ভয়ংকর চিত্র।

ঘুষ ছাড়া নড়ে না ফাইল, পদে পদে হয়রানি ভূমি অফিসে নামজারি (মিউটেশন), ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) প্রদান, খতিয়ান তোলা থেকে শুরু করে যেকোনো কাজের জন্যই সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে দ্বারস্থ হতে হয় দালালদের। সরকারি নির্ধারিত ফি-এর বাইরেও প্রতিটি টেবিলের জন্য রয়েছে অলিখিত ‘রেট’ বা ঘুষের প্যাকেজ। এই টাকা না দিলে কাগজপত্রে নানা কাল্পনিক ত্রুটি দেখিয়ে দিনের পর দিন ঘোরানো হয় সেবাগ্রহীতাদের। ভুক্তভোগীদের দাবি, দালালদের মাধ্যমে গেলে পাহাড়সম জটিল কাজও জাদুর মতো সমাধান হয়ে যায়, তবে এর জন্য গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

সিন্ডিকেটের মূল কারিগর: সঞ্জীব ও আসাদুজ্জামান অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের বিস্তর অভিযোগ মতে, এই অফিসের দালাল চক্রটি পরিচালিত হয় কর্মকর্তা সঞ্জীব ও আসাদুজ্জামানের প্রত্যক্ষ মদদ ও ইশারায়। তারা সাধারণত সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের সাথে লেনদেন না করে বিশ্বস্ত দালালদের মাধ্যমে দরকষাকষি করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকর্তাদের কক্ষের আশেপাশেই দালালরা রীতিমতো চেয়ার-টেবিল পেতে বসে থাকেন এবং প্রকাশ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। সঞ্জীব ও আসাদুজ্জামানের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছাড়া কোনো ফাইলেই স্বাক্ষর হয় না। দিনশেষে দালালদের আদায় করা বিপুল অঙ্কের এই অবৈধ অর্থের বড় একটি অংশ চলে যায় এই দুই কর্মকর্তার পকেটে।

ডিজিটাল সেবার আড়ালে এনালগ দুর্নীতি সরকার ই-নামজারি ও অনলাইনে খাজনা দেওয়ার মতো যুগান্তকারী সেবা চালু করলেও এখানকার চিত্র ভিন্ন। ইচ্ছাকৃতভাবে সার্ভারে সমস্যা, অনলাইনে সাবমিট করা কাগজে ভুল—ইত্যাদি নানা অজুহাত তৈরি করে সেবাগ্রহীতাদের বাধ্য করা হয় সরাসরি অফিসে এসে দালালদের শরণাপন্ন হতে। আর এই অসহায়ত্বের সুযোগটিকেই পুঁজি করেছে সঞ্জীব-আসাদুজ্জামান সিন্ডিকেট।

ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাগ্রহীতা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মাসের পর মাস ঘুরেও বৈধ উপায়ে কাজ করানো সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে দালালদের সাথে চুক্তিতে গেলে ম্যাজিকের মতো কাজ হয়ে যায়। চোখের সামনেই এমন রমরমা দুর্নীতি ও হয়রানির মহোৎসব চললেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও তাদের পালিত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button