অভিযানপ্রশাসন

রমজানে বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে ফুলবাড়ীতে প্রশাসনের অভিযান

মোঃ শাহ জামাল শাওন, ফুলবাড়ী , কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বাজারে অধিকাংশ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে। আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে না পেরে অনেকেই হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। রমজানকে সামনে রেখে খেজুরের চাহিদা বাড়ায় প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আঙ্গুরের দাম ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকায় পৌঁছেছে।

এছাড়া কাঁচাবাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা এবং রসুনে প্রায় ৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশীয় মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

সবজির বাজারেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। দুই দিন আগেও প্রতি কেজি শসা ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৬০ টাকায় উঠেছে। লেবুর হালি ৩২ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, দেশি বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা এবং গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আসা ক্রেতাদের চোখেমুখে বিরক্তি ও অসন্তোষের ছাপ স্পষ্ট। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন বলে জানান তারা। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রমজান শুরু হওয়ার আগেই যদি এভাবে দাম বাড়তে থাকে, তবে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কথাও উল্লেখ করছেন কেউ কেউ।

এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার ফুলবাড়ী বাজারে সতর্কতামূলক বাজার মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফুলবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার হোসাইন জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির খবর প্রকাশের পর বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর হয় এবং সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে ফুটপাতের দোকানগুলোকে রাস্তার ওপর না বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি রমজান মাসকে সামনে রেখে অযৌক্তিকভাবে কোনো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রমজানকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত মুনাফা রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি জরুরি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button