অলংকারের কিশোর গ্যাং সোর্স রনি’কে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পাহাড়তলীতে চাঁদাবাজ চক্রের তাণ্ডব,যুবদল অফিস ভাঙচুরে আতঙ্কে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী,রাস্তার টোকাই থেকে লাখপতি সোর্স রনি ,টাকার উৎস চাঁদাবাজি রাহাজানি, মাদক ব্যবসা ,কিশোর গ্যাং যোগানদাতা, রনির গডফাদার প্রশাসন
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলীতে চাঁদাবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য থামছেই না, যুবদল কার্যালয়ে দফায় দফায় হামলা ভাঙচুর লুটপাটের অভিযোগে উত্তাল অলংকার
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকার অলংকারে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।সর্বশেষ আলিফ হোটেল গলিতে অবস্থিত যুবদলের একটি কার্যালয়ে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।স্থানীয়দের দাবি, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে টিনসেট নির্মিত ওই কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। অফিসে থাকা চেয়ার, টেবিল, আলমারি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়।শহীদ জিয়ার স্মৃতি নামের একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,অলংকার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার,চাঁদাবাজি ও দখল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে।চাঁদা আদায়, ভাসমান দোকান নিয়ন্ত্রণ,কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও যানবাহন থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ বহুদিনের।সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের জেরেই যুবদল কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ,চিহ্নিত চাঁদাবাজ জাকির হোসেন রনির নেতৃত্বে তার অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে।যদিও অভিযুক্ত জাকির হোসেন রনির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তিনি কোনো হামলা বা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নন,তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী জি কুইনটেন রিবেরো,যিনি জাতীয়তাবাদী যুবদল চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠক এবং বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম জেলার আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত,জানান তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।এলাকার চুরি, ছিনতাই,চাঁদাবাজি ও মাদক বিস্তারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার উদ্দেশ্যেই নিজস্ব অর্থায়নে কার্যালয় স্থাপন করেছিলেন। তার দাবি,স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্র তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা পাচ্ছিল বলেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন,তাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র চলছে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।তার ভাষ্য অনুযায়ী,অলংকার এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ী, ভাসমান দোকানদার ও পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়।কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় অথবা ভয়ভীতি দেখানো হয়।
গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ইং গভীর রাতে অলংকার এলাকায় আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।রাত ১২টা ৩৫ মিনিটের সময় চাঁদা না দেওয়ায় একটি দোকানে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।কয়েক মিনিটের মধ্যে দোকানটি ভাঙচুর করে একপ্রকার ধ্বংস করে দেওয়া হয়। একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে।ফুটেজে দেখা যায়,রনিসহ কয়েকজন যুবক দ্রুত এসে দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকা ত্যাগ করে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার জানান,ভাসমান দোকান বসাতে প্রথমে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এরপর প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়।নির্ধারিত অর্থ না দিলে দোকান ভাঙচুর,মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া কিংবা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন দোকানদার একই ধরনের অভিযোগ করেন।
কয়েকজন পরিবহন চালক অভিযোগ করেন,অলংকার এলাকায় চলাচলকারী যানবাহন থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়।টাকা না দিলে গাড়ি আটকে দেওয়া, মারধর করা কিংবা পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।এতে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করা হলেও বর্তমানে নতুন পরিচয়ে সক্রিয় রয়েছে একই চক্র।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে ছবি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে যেসব ছবি তুলে ভয় ভীতি দেখানো হতো ওসব ছবি তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে বর্তমানে ডিলিট করে দেন। এখন নতুনরূপে শুরু করেন বিএনপিকে বিক্রয় করা।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।তাদের দাবি,দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি,ছিনতাই ও দখলবাজির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে পাহাড়তলী থানা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।ব্যবসায়ী,পরিবহন চালক ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এলাকাবাসীর আশঙ্কা,দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের একটাই দাবি,নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।চাঁদাবাজি,কিশোর গ্যাং,সন্ত্রাস ও দখলবাজি বন্ধ করে পাহাড়তলীতে স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
(ধারাবাহিক দ্বিতীয় পর্ব)



