পরিবহণমন্ত্রীর চাঁদাবাজি সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা টিআইবি-র: দলীয় শুদ্ধিকরণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সড়ক ও পরিবহণ খাতে চাঁদাবাজিকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, পরিবহণমন্ত্রীর এমন অবস্থান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং আত্মঘাতী পথ রোধে প্রধানমন্ত্রীকে নিজ দলের ভেতরে ‘শুদ্ধি অভিযান’ ও সংস্কারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
আজ (রবিবার) এক বিবৃতিতে টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।
মন্ত্রীর বক্তব্য ‘নির্বাচনী ইশতেহারের অবমাননা’
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রিসভার সদস্যরা দুর্নীতিবিরোধী যে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছিলেন, পরিবহণমন্ত্রীর চাঁদাবাজির সংজ্ঞা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন:
“সরকার প্রধানের জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণ এবং নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি প্রতিরোধের অঙ্গীকারের ৪৮ ঘণ্টাও পার হয়নি, এর মধ্যেই মন্ত্রীর এমন মন্তব্য হতাশাজনক। এর মাধ্যমে তিনি নিজের দলের অঙ্গীকার ও সরকার প্রধানের অবস্থানকে বিব্রতকরভাবে অবমূল্যায়ন করেছেন।”
চাঁদাবাজিকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার চেষ্টা
বিবৃতিতে বলা হয়, মালিক ও শ্রমিক কল্যাণের অজুহাতে সড়কে চাঁদাবাজিকে যেভাবে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তা মূলত একটি অনৈতিক ও যোগসাজশের দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা।
- ভোক্তভোগী: সাধারণ মানুষ ও পরিবহণ সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা সরাসরি এই অবৈধতার বোঝা বইছেন।
- বিশৃঙ্খলা: টিআইবি মনে করে, এটি পরিবহণ খাতের দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেওয়ার একটি অপতৎপরতা।
অন্য খাতেও দুর্নীতির ঝুঁকি
টিআইবি প্রশ্ন তুলেছে, সড়কে চাঁদাবাজিকে যদি ‘সমঝোতা’র নামে গ্রহণ করা হয়, তবে বিআরটিএ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি বা ব্যাংক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোতে এই একই তত্ত্বের প্রয়োগ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে? ড. জামান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০১২ সালেও তৎকালীন সড়ক মন্ত্রী একইভাবে চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যা আত্মঘাতী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে কি না, তা নিয়ে সংস্থাটি শঙ্কা প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দলীয় শুদ্ধিকরণের আহ্বান
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি টিআইবি-র আহ্বান:
- বক্তব্য প্রত্যাখ্যান: অবিলম্বে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পরিবহণমন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
- জবাবদিহি: সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
- শুদ্ধি অভিযান: নিজ দলের নেতাকর্মীদের একাংশের আত্মঘাতী পথ রোধে দলীয় শুদ্ধিকরণ ও সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ড. জামান সতর্ক করে বলেন, এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে দেশবাসী হতাশ হবে এবং এমন শক্তির উত্থান ঘটতে পারে যারা বাংলাদেশের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।



