সিলেটে বোরো চাষের ধুম: লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদী কৃষকরা, দুশ্চিন্তায় ফেলছে সেচ সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সিলেট বিভাগ জুড়ে এখন বোরো ধান চাষের ভরা মৌসুম। মাঠের পর মাঠ জুড়ে চলছে চারা রোপণের কর্মযজ্ঞ। সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে কৃষকরা এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলগুলোতে বোরো আবাদকে কেন্দ্র করে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ও বর্তমান অবস্থা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা বেশ আশাব্যঞ্জক। উদাহরণস্বরূপ, একটি নির্দিষ্ট উপজেলায় এ বছর ৫,১৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী:
- অগ্রগতি: লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে ইতোমধ্যে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
- চারা রোপণ: ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটি মাঠে পর্যায়ক্রমে চারা রোপণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি উপকরণ
এ বছর আবহাওয়া কৃষকদের অনুকূলে রয়েছে। এছাড়া সার, বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় কৃষকরা বেশ উৎসাহের সাথে মাঠে নেমেছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রধান বাধা: সেচ সংকট
মাঠে কাজের তোড়জোড় থাকলেও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে সেচ সুবিধা। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে:
- পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আবাদ আরও বাড়ানো সম্ভব।
- নিজস্ব পাম্প দিয়ে অনেকে কাজ চালালেও দুর্গম এলাকাগুলোতে পানির অভাব প্রকট।
- ঠিকমতো পানি না পেলে ধানের ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
“আবহাওয়া ভালো থাকায় আমরা খুশি, কিন্তু সেচ সুবিধা পর্যাপ্ত না হলে আমাদের পরিশ্রম বৃথা যেতে পারে। সরকার যদি পানির ব্যবস্থাটা সহজ করে দিত, তবে আমরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ধান ফলাতে পারতাম।” — একজন স্থানীয় কৃষক।
কৃষি অফিসের বক্তব্য
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বোরো চাষ সফল করতে কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রোপণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হবে। সেচ সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, “সেচ সমস্যা সমাধানে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করছি যাতে পানির অভাবে কোনো কৃষকের ফসল নষ্ট না হয়।”
আশা করা যাচ্ছে, যথাসময়ে সেচ সমস্যার সমাধান হলে সিলেট বিভাগে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



