অন্যান্য

সুন্দরগঞ্জে হিমাগার অভাব, উৎপাদিত ফসল নিয়ে বিপাকে কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের অন্যতম কৃষিপ্রধান অঞ্চল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় উৎপাদিত পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য সরকারি কোনো হিমাগার নেই। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৫ বছরেও এই উপজেলায় সরকারি পর্যায়ে কোনো হিমাগার নির্মিত না হওয়ায় প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট হচ্ছে। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে এবং সংরক্ষণের অভাবে অনেক কৃষক এখন চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

তিস্তা নদীবেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আলু, পেঁয়াজ, মরিচ ও শাকসবজি উৎপাদিত হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখানকার উৎপাদিত আলু ও সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বিড়ম্বনা শুরু হয় ফসল কাটার মৌসুমে। উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের কৃষক মজিবর রহমান জানান, “মাঠে আলুর দাম যখন ১৫-১৬ টাকা কেজি, তখন আমাদের বিক্রি করতে হয়। কারণ বাড়িতে রাখলে আলু পচে যায়। যদি একটা কোল্ড স্টোরেজ থাকত, তবে আমরা মজুদ করে পরে ভালো দামে বিক্রি করতে পারতাম।”

কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয়দের মতে, সুন্দরগঞ্জে একটি হিমাগার স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। এর পেছনে প্রধান তিনটি কারণ হলো: ১। হিমাগার না থাকায় পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃষকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নামমাত্র মূল্যে ফসল কিনে নেয় ২। স্থানীয় কৃষকদের পরবর্তী মৌসুমের বীজের জন্য অন্য জেলার হিমাগারের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং বীজের মান অনেক সময় নষ্ট হয় ৩। ফসল পচে যাওয়ার ভয়ে বাজারে একসঙ্গে সব পণ্য চলে আসায় দাম অস্বাভাবিক কমে যায়। হিমাগার থাকলে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে সারা বছর পণ্যের সঠিক দাম নিশ্চিত করা সম্ভব।

সুন্দরগঞ্জে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। চরাঞ্চলের উর্বর জমিতে ফলন ভালো হলেও আধুনিক বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারছেন না।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এখানে একটি হিমাগার থাকলে তা কেবল কৃষকদের সুরক্ষা দেবে না, বরং সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, সুন্দরগঞ্জে হিমাগার নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এই এলাকায় বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জের কৃষকদের দাবি, কৃষিবান্ধব সরকারের উন্নয়ন যাত্রায় এই উপজেলায় দ্রুত একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হোক, যাতে তারা হাড়ভাঙ্গা খাটুনির ফসলের সঠিক মূল্য পেতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button