খিলগাঁও থেকে অটো চালক শাওনকে অপহরণ করে মুক্তিপন দাবী সন্ত্রাসী সিপলু মিয়া গংদের

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় অনুমান রাত ৯ ঘটিকার সময় অটো (মিশুক) গাড়ি চালক মো: শাওন (২১) নন্দীপাড়া ব্যাংক কলোনী এলাকায় অবস্থান করেন।
হঠাৎ অপরিচিত ৪ জন লোক গুলশান-১ যাওয়ার কথা বলে ৫০০/- (পাচশত) টাকা ভাড়া চুক্তিতে মো: শাওনের মিশুক অটোতে ওঠে। কিছুদুর যাওয়ার পথেই যাত্রীবেসধারী অপহরণকারী সন্ত্রাসীরা চালক শাওনকে অজ্ঞান করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। ঘটনার দিন ১৪-০৩-২৫ ইং তারিখ রাত অনুমান ১০.৪৫ ঘটিকায় অপরিচিত মোবাইল (০১৯৮৪২৯৮৭৬১) নাম্বার থেকে শাওনের বাবার ব্যবহৃত মোবাইল (০১৯২৬৬৩৫৫৭৪) নাম্বারে ফোন দিয়ে মো: শাওনকে অপহরণের কথা নিশ্চিত করেন এবং মুক্তিপন হিসেবে নগত ৫০.০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা দাবী করেন অপহরণকারী সন্ত্রাসীরা। এ চক্রের সাথে আরো অজ্ঞাত ৮/১০ জন সদস্য ছিল।
ভুক্তভোগী অসহায় থাকার কারণে উক্ত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অপহরণকারী সন্ত্রাসীরা শাওনকে খুন করে ফেলার হুমকি দেন। তার বাবা সহ পরিবারকেও গুম করে ফেলবে এবং বিভিন্ন প্রকারের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। সন্ত্রাসীরা ৫০ হাজার মুক্তিপনের টাকা না পেয়ে মধ্যযুগী কায়দায় ক্ষণে ক্ষণে নির্যাতন চালান। এমনকি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হাত-পা বেঁধে লাঠি এবং হাতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে থেতলিয়ে নীলাফুলা করেন। শাওনের শরীরে রক্তাক্ত করে উত্তরা দিয়াবাড়ী ১ নং সেক্টর, ওভার ব্রিজের ৩৬নং পিলার সংলগ্ন টংগের চায়ের দোকানে সামনে অচেতন অবস্থায় রেখে অটো (মিশুক) গাড়ী নিয়ে পালিয়ে যান সন্ত্রাসীরা। গাড়িটির বাজার মূল্য ১,৫৬.০০০/- (এক লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার)।
পরবর্তীতে শাওনের বাবা মো: শাহীন মিয়া (৪৫) মা হাসিনাকে সাথে নিয়ে, ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মো: শাওনকে উদ্ধার করে, দ্রুত সিএনজিতে মুগদা মেডিকেল হাসাপতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। মেডিক্যাল থেকে দুই-দিন পর চিকিৎসা শেষে বাবা শাহিন মিয়া খিলগাঁও মডেল থানায় মামলা করতে গেলে, থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে তুরাগ থানায় পাঠিয়ে দেয়, সেখানে গিয়েও অভিযোগ করেন। তুরাগ থানার এসআই মাসুদ রানা আসামির থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে তাদের পক্ষে রায় দেয়। তুরাগ থানার তৎকালীন ওসি মামলা নেওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে এসআই মাসুদ রানা মামলা না নিয়ে, আবার খিলগাঁও থানায় পাঠান।
খিলগাঁও থানায় অভিযোগ দিলে, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমাকে আশ্বাস দেন তৎকালীন ওসি মো: দাউদ হোসেন (০১৩২০০৪০২১৬), কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, এসআই আতিকুজ্জামান (০১৭২৩০৪২৪৫৭) তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আজ করবে কাল করবে বলে সময় ক্ষেপন করছেন। আসামিদেরকেও গ্রেফতার করছেন না এবং আমার অটো (মিশুক) গাড়িও উদ্ধার করে দেয়নি। পরবর্তীতে জানতে পারি যে সন্ত্রাসীদের গডফাদার আমার সৎ (ভাই-বোন)- সিপলু মিয়া (২৯), তাসলিমা (৩৪), রুপালী (৩০), শাহিন (৩৫), গুরুঙ্গ (৬০)। এই সন্ত্রাসীদের মধ্যে মূল হোতা সিপলু মিয়া, তার নেতৃত্বেই শাওনকে অপহরণ করেন এবং অটো মিশুক গাড়ি নিয়ে হামলা নির্যাতন সহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন।
খিলগাঁও-তুরাগ থানায় সঠিক বিচার না পেয়ে উপরোক্ত সন্ত্রাসী ও গডফাদারদের আসামি করে, মোকাম বিজ্ঞ চীফ ম্যাজিস্ট্রেট তুরাগ (আমলী) আদালত- ঢাকা, বিগত ০২-০৭-২৫ ইং মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বাবা। সিআর মামলা নং (২১২/২৫), ধরা (৩২৬/৩৮৫/৩৯৫/৫০৬/১০৯ দন্ডবিধি ১৮৬০। মামলা চলমান ও বর্তমানে দায়িত্বে আছেন, অ্যাড. নজরুল আহমেদ (০১৯১৯১৯০৭৯৬)। মামলা করার পরে উল্লেখিত আসামী সহ অজ্ঞত আরো ৯ জন সন্ত্রাসীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার বাদী শাহিন মিয়া এবং তার পরিবারের সকলকে বিভিন্ন প্রকারের হুমকি-ধমকি ভয়-ভীতি দেখান, এমনকি তাদেরকে গুম করে ফেলবেন বলে একাধিক বার বলেছেন। এমতাবস্থায় নিরাপত্তার জন্য খিলগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মো: শাহিন মিয়া, জিডি নং (১৩১৬), তারিখ ১৪-০৮-২৫ ইং, তদন্তে দায়িত্বে (এসআই হাফিজুর রহমান (০১৯১৫০২৬৬৮৩), তার থেকেও কোন তদন্তের অগ্রগতির আশ্বাস পাইনি ভুক্তভোগীরা।
অপরদিকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় (সিআইডি) এর এসআই মনির হোসেন (০১৭১০১৮৩১২০), তিনি এখন পর্যন্ত মামলার কোন প্রতিবেদন জমা দেয়নি, উল্টো বাদীকে বলেন এ মামলার রিপোর্ট দেওয়া যাবে না, তবে আপনার ঘটনা সত্য! তিনি কার নির্দেশে তদন্ত প্রতিবেদন (রিপোর্ট) দিতে ভয় পাচ্ছেন, না আসামীর মোটা অংকের টাকা খেয়ে বসে আছেন? এদিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও তার পরিবার, অপহরণের শিকার শাওনকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেয়। বক্তব্যিরা বলেন, এমতাবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় জীবন যাপন করতেছি, যে কোন মুহূর্তে আমরা ঘুম হতে পারি, আমার দেওয়া সব বক্তব্য সঠিক এবং আমার সাক্ষী প্রমান ডকুমেন্ট আছে, তার তদন্তপূর্বক আইনের সঠিক বিচার চায়।
বাদী: মো: শাহিন মিয়া (৪৪), পিতা-ধনু মিয়া, বিবাদী: সিপলু মিয়া (২৯), পিতা-নুর মোহাম্মদ, তাসলিমা আক্তার (৩৪), পিতা-নুর মোহাম্মদ, রূপালী আক্তার (৩০), পিতা-নুর মোহাম্মদ, শাহিন (৩৫), পিতা-অজ্ঞাত, গুরুঙ্গ (৬০), সর্বসাং- দিয়াবাড়ি, থানা-লক্ষ্মীপুর, জেলা-কুমিল্লা সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৯ জন। সাক্ষী: বাদী নিজ-মো: শাহীন মিয়া (৪৪), মোসা: হাসিনা (৪০), স্বামী- মো: শাহীন মিয়া, আরিফুল ইসলাম শাহিন (২০), পিতা- মো: শাহীন মিয়া।
পরিশেষে বাদী শাহিন মিয়ার ছেলে মো: শাওনকে অপহরণকারী সন্ত্রাসীর গডফাদার সিপলু মিয়া গংদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানান এবং খিলগাঁও থানার তৎকালীন ওসি মো: দাউদ হোসেন, এসআই আতিকুজ্জামান, এসআই হাফিজুর রহমান, তুরাগ থানার তৎকালীন ওসি-এসআই মাসুদ রানা,
সিআইডির এসআই মনির হোসেনরা আইনি সহায়তা এবং তদন্ত পূর্বক সঠিক বিচার করায় সজন প্রীতি-অবহেলা করার অপরাধে তাদেরকেও প্রচলিত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।



