ঘুষের বিনিময়ে ৩০ শিক্ষককে মৌখিক ডেপুটেশন, তোলপাড় শালিখায়: শিক্ষা অফিসারকে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাগুরা | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মাগুরা: মাগুরার শালিখা উপজেলায় বিধি-বহির্ভূতভাবে ৩০ জন শিক্ষককে মৌখিক ডেপুটেশন প্রদান এবং এর বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হেনায়ারা খানমের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের এই অভিযোগ ওঠার পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার বিবরণ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হেনায়ারা খানম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ গোপনে উপজেলার ৩০ জন প্রাথমিক শিক্ষককে মৌখিক ডেপুটেশন প্রদান করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রচলিত নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
সূত্রমতে, এই ৩০ জন শিক্ষকের ডেপুটেশন প্রদানের বিনিময়ে শিক্ষা অফিসার হেনায়ারা খানম প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকার অবৈধ লেনদেন করেছেন। শিক্ষকদের সুবিধাজনক স্থানে বদলি বা ডেপুটেশন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এই বিপুল অংকের ‘ডেপুটেশন বাণিজ্য’ করা হয়েছে। গোপন এই কার্যক্রম জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শোকজ প্রদান
নীতিমালা লঙ্ঘন করে এবং কর্তৃপক্ষের অগোচরে কেন এই ডেপুটেশন প্রদান করা হলো, তার উপযুক্ত ব্যাখ্যা চেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসারকে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নজরে আসার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক জানান, “নিয়ম অনুযায়ী ডেপুটেশন প্রদানের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, কিন্তু এখানে নিয়ম নয় বরং টাকার বিনিময়ে মৌখিক নির্দেশে শিক্ষকদের এক বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।”
এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষা অফিসার হেনায়ারা খানমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। জেলা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।



