দুর্ঘটনা

ভোরের ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল হালিমা মঞ্জিল, চমেকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ৯ জন

মুহাম্মদ জুবাইর

হালিশহরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ,শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ,সবার অবস্থা সংকটাপন্ন

চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকায় একটি বাসার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন।চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী,তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহর এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়,বিস্ফোরণের পরপরই ফ্ল্যাটে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান,ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো না।সেখানে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাসের সংযোগ ছিল।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে ছিল। পরবর্তীতে কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে এসে সেই জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরিত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে,বিস্ফোরণে ঘরে থাকা নারী ও শিশুসহ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে Chittagong Medical College Hospital-এ ভর্তি করা হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান,দগ্ধদের সবার শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন। বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে,আহতদের মধ্যে রানী ও পাখি নামে দুই নারীর শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তির শরীরও শতভাগ দগ্ধ হয়েছে।এছাড়া একজনের শরীরের ৮০ শতাংশ, একজনের ৪৫ শতাংশ এবং বাকিদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন,অধিকাংশের শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ভবনটির গ্যাস সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button