অজ্ঞতা ও গুজবের কবলে সমাজ: বিশ্লষণধর্মী নিবন্ধে বিল্লাল বিন কাশেমের সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সমাজে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা, ঘৃণা এবং সহিংসতার মূল কারণ হিসেবে ‘অজ্ঞতা’ ও ‘মুক্তচিন্তার অভাব’কে দায়ী করেছেন লেখক ও গণসংযোগবিদ বিল্লাল বিন কাশেম। সম্প্রতি তার একটি উপসম্পাদকীয়তে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে তথ্যের গভীরে না গিয়ে বা যাচাই না করে হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ আধুনিক সভ্যতাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইতিহাসের নির্মম উদাহরণ
বিল্লাল বিন কাশেম তার লেখায় মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত হত্যাকাণ্ড, সাহিত্যিক নাগিব মাহফুজ এবং চিন্তাবিদ ফরাজ ফোদাকে হত্যার চেষ্টার উদাহরণ টেনেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রতিটি ঘটনায় দেখা গেছে হামলাকারীরা তাদের শিকার বা তাদের কাজ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান রাখত না। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তারা স্বীকার করেছিল যে, তারা বই না পড়েই বা শব্দের অর্থ না জেনেই কেবল ‘অন্যের কথায় প্ররোচিত হয়ে’ এই নৃশংসতায় লিপ্ত হয়েছিল।
ডিগ্রি বনাম মননশীলতা
লেখক মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তার মতে:
- অজ্ঞতা মানে কেবল শিক্ষার অভাব নয়, বরং চিন্তার অনুশীলনের অভাব।
- মানুষ তথ্যের উৎস যাচাই না করেই গুজবকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করছে।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিকৃত ভিডিও বা পোস্ট মুহূর্তেই সমাজে বিভাজন তৈরি করছে।
‘ওরা’ বনাম ‘আমরা’ বিভাজন
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ঘৃণা কখনো প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় না; একে রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক স্বার্থে লালন-পালন করা হয়। ‘ওরা’ আর ‘আমরা’—এই কৃত্রিম বিভাজনরেখা টেনে মানুষকে অন্ধ অনুগত করার মাধ্যমেই ঘৃণার বীজ বপন করা হয়। লেখক সতর্ক করে বলেন, “অনুগত মানুষ সহজেই ঘৃণার রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে ওঠে।”
উত্তরণের পথ: জ্ঞান ও সহনশীলতা
বিল্লাল বিন কাশেমের মতে, জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী ও সহনশীল করে তোলে। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি প্রশ্ন করতে শেখেন এবং ভিন্নমতকে সম্মান করেন। বর্তমানের ‘ক্যানসেল কালচার’ বা না জেনেই কোনো কিছুকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বা ‘ধর্মবিরোধী’ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উপসংহার ও আহ্বান
লেখার শেষাংশে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন পাঠকদের প্রতি। কোনো বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করার আগে তিনটি বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি: ১. বিষয়টি কি প্রমাণসহকারে জানা? ২. মূল উৎসটি কি পড়া হয়েছে? ৩. বিপরীত মতটি কি শোনা হয়েছে?
তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ গড়তে হলে পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বিতর্কসভার চর্চা বাড়াতে হবে। কারণ, যে সমাজ জ্ঞানকে লালন করে, সেখানে ঘৃণা টিকতে পারে না।



