টিসিবি পণ্য বিতরণে চরম বিশৃঙ্খলা: উত্তরায় আহত ৩, দেশজুড়ে হাহাকার

মো. জাকিরুল ইসলাম | ঢাকা
রমজান উপলক্ষে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের পণ্য বিতরণে চরম অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলার চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে পণ্য কেনাকে কেন্দ্র করে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কিতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। পণ্য স্বল্পতা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, তবুও মিলছে না পণ্য
সরেজমিনে দেখা যায়, সেহেরির পর থেকেই মানুষ লাইনে দাঁড়ালেও চাহিদার তুলনায় পণ্যের বরাদ্দ ছিল নগন্য। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে সকালে পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও হঠাৎ বিক্রয়স্থল পরিবর্তনের ঘোষণা আসায় বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম বিপাকে পড়েন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ট্রাক এলে লাইনের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যারা আগে এসেছিলেন, তারাও ধাক্কাধাক্কির কারণে পণ্য সংগ্রহ করতে পারেননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত বছরের মতো এবারও সিরিয়াল স্লিপ বা টোকেন ব্যবস্থা না থাকায় “জোর যার মুল্লুক তার” অবস্থা তৈরি হয়েছে। ধাক্কাধাক্কি করে যারা সামনে যেতে পারছে, তারাই কেবল পণ্য পাচ্ছে।
প্যাকেজ সীমিত, চাহিদা দ্বিগুণ
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ট্রাকে ৪০০ জনের জন্য বরাদ্দ থাকলেও ভিড় হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি। ৫৯০ টাকার নির্ধারিত প্যাকেজে রয়েছে:
- ২ লিটার ভোজ্যতেল
- ২ কেজি মসুর ডাল
- ১ কেজি চিনি
- ১ কেজি ছোলা
- ৫০০ গ্রাম খেজুর
৪০০ জনের জন্য বরাদ্দ নিয়ে ৬০০-৭০০ জনের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ডিলাররা। ফলে অর্ধেকের বেশি মানুষকে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
অব্যবস্থাপনা নাকি সরবরাহ সংকট?
ডিলারদের দাবি, আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ট্রাক দেরিতে পৌঁছানোর কারণে সঠিক সময়ে বিক্রি শুরু করা যাচ্ছে না। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ ভিন্ন। অনেকের মতে, ডিলাররা নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম বিতরণ করে বাকি পণ্য গোপনে খোলা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। যদিও এই অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি, তবে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারির অভাব স্পষ্ট।
সারাদেশের চিত্র একই
শুধু উত্তরা নয়, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা ও পৌর এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘ বিরতির পর সীমিত পয়েন্টে পণ্য বিক্রি করায় হুড়োহুড়ি বাড়ছে, যা অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। পর্যাপ্ত মজুতের সরকারি আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে সরবরাহ সংকটে সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে।
জনদাবি ও প্রত্যাশা
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই ভোগান্তি নিরসনে চারটি জরুরি দাবি জানিয়েছেন: ১. স্বচ্ছতার জন্য পুনরায় টোকেন বা সিরিয়াল ব্যবস্থা চালু করা। ২. মানুষের চাপ কমাতে বিক্রয় পয়েন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। ৩. চাহিদার সাথে সংগতি রেখে পণ্য বরাদ্দ বাড়ানো। ৪. ডিলারদের কার্যক্রমে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি।
পবিত্র রমজান মাসে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের এই মহৎ উদ্যোগ যেন অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও অপমানের কারণ না হয়, এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।



