আন্তর্জাতিক

বিএলএ-র আল্টিমেটামের মুখে নতি স্বীকার: বন্দি বিনিময়ে রাজি পাকিস্তান সরকার

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক | কয়েক সপ্তাহের চরম উত্তেজনা ও নাটকীয়তার পর, অবশেষে বালুচ লিবারেশন আর্মি (BLA)-র দাবি মেনে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ। ‘অপারেশন হেরোফ ২.০’ চলাকালীন আটক হওয়া পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রাণ বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

খবরের পটভূমি

গত কয়েক সপ্তাহ আগে সমগ্র বালুচিস্তান জুড়ে বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালায় বিএলএ, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন হেরোফ ২.০’। এই অপারেশন চলাকালীন বেশ কিছু পাকিস্তানি সৈন্য বিএলএ-র হাতে বন্দি হন। বিএলএ-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, পাকিস্তান সরকার যদি তাদের বন্দি যোদ্ধাদের মুক্তি না দেয়, তবে এই সৈন্যদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

অস্বীকার থেকে স্বীকৃতির নাটক

প্রথম দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও জান্তা ঘনিষ্ঠ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো বন্দি হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিল। বিএলএ যখন বন্দি সৈন্যদের ভিডিও প্রকাশ করে, তখন সেগুলোকে ‘এআই (AI) দিয়ে তৈরি’ বা ভুয়া বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তবে বিএলএ-র দেওয়া সাত দিনের সময়সীমার (ডেডলাইন) শেষ দিনে এসে নাটকীয়ভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে কর্তৃপক্ষ। তারা স্বীকার করে নেয় যে, তাদের সৈন্যরা ছুটিতে থাকাকালীন অপহৃত হয়েছেন।


চুক্তির মূল শর্তাবলি

সবশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। চুক্তির মূল দিকগুলো হলো:

  • সৈন্যদের মুক্তি: বিএলএ তাদের হেফাজতে থাকা পাকিস্তানি সৈন্যদের মুক্তি দেবে।
  • বিদ্রোহী যোদ্ধাদের মুক্তি: বিনিময়ে পাকিস্তান সরকারকে তাদের কারাগারে বন্দি থাকা বিএলএ যোদ্ধাদের মুক্তি দিতে হবে।
  • সময়সীমা: বিএলএ-র দেওয়া সাত দিনের চরম আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বিশ্লেষকদের মতে: সরকারের এই পিছুটান এবং বন্দি বিনিময়ে সম্মতি দেওয়া বিএলএ-র জন্য একটি বড় ধরনের কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button