সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল: কামরুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থলাভিষিক্ত, বাড়ছে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের সামরিক প্রশাসনে এক নাটকীয় রদবদলে লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসানকে সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং বিশেষ করে দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ‘ভারতীয় বলয়’ থেকে বের করে আনার কারিগর হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তার অপসারণ নিয়ে ইতোমধ্যেই নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
‘মেরুদণ্ডী’ অফিসারের বিদায়?
লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসানকে সেনাবাহিনীর একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও পেশাদার অফিসার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গুঞ্জন ছিল, পরবর্তী সেনাপ্রধান হওয়ার দৌড়ে তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য। গত বছর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাথে তার বৈঠকটি ছিল প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে একটি বড় মাইলফলক। ওই বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং অত্যাধুনিক JF-17 যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছিল, যা বাংলাদেশের সামরিক নির্ভরতা বহুমুখীকরণের একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
দিল্লি সংশ্লিষ্টতা ও পদোন্নতির সমীকরণ
একদিকে যখন কামরুল হাসানের মতো অফিসারকে মূল বাহিনী থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, অন্যদিকে দিল্লিতে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজুর রহমানকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এই বৈপরীত্য সামরিক পর্যবেক্ষকদের নজর এড়ায়নি। সমালোচকদের দাবি:
- ভারত কানেকশন: অভিযোগ উঠেছে যে, ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বা সেখানে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ারে বিশেষ গতি আসছে।
- রাজনৈতিক পদায়ন: সম্প্রতি দীর্ঘ ৯ বছর ভারতে অবস্থান শেষে দেশে ফিরে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে বড় ধরনের রদবদল ও পদায়ন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
দেশপ্রেম বনাম ভূ-রাজনীতি
সাধারণ সৈনিক ও সচেতন মহলে আলোচনা চলছে যে, যারা জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনতে চাচ্ছেন, তারা কি কোনো অদৃশ্য শক্তির চাপে কোণঠাসা হচ্ছেন? কামরুল হাসানের এই ‘বিতাড়ন’ এবং দিল্লি-ফেরত কর্মকর্তাদের ‘পুরস্কৃত’ করাকে অনেকে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে একটি অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন।
সেনাবাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে এই রদবদলকে নিয়মিত প্রক্রিয়া বলা হলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি কেবল ‘বদলি’র চেয়েও বেশি কিছু বলে ধারণা করা হচ্ছে।



