‘হাত-পা বাঁধা, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে’: ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তার আর্তনাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
“অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গেলেই যেন অদৃশ্য এক দেয়াল সামনে এসে দাঁড়ায়। যখন দেখি অসাধু ব্যবসায়ীরা আগের মতোই সক্রিয় কিন্তু আমাদের হাত-পা বাঁধা—তখন ভীষণ অসহায় লাগে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবেই নিজের পেশাগত সীমাবদ্ধতা ও ব্যক্তিগত বেদনার কথা তুলে ধরেছেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার মন্ডল।
তার এই খোলামেলা বক্তব্য বর্তমানে প্রশাসনের অন্দরে থাকা অস্থিরতা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পথে অন্তরায়গুলোকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
‘সেই স্বাধীনতা আর নেই’
আব্দুল জব্বার মন্ডল তার বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন। তিনি জানান, সেই সময়ে অবৈধ ব্যবসা, মজুতদারি এবং মূল্য কারসাজির বিরুদ্ধে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ ছাড়াই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পেরেছিলেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন:
“তখন মনে হয়েছিল, সত্যিই জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। নানা অদৃশ্য বাধা আর সীমাবদ্ধতার কারণে সেই স্বাধীনতা আর নেই।”
নৈতিক সংকট ও পেশাগত বেদনা
একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের অধিকার রক্ষার শপথ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বর্তমানে যে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাকে তিনি কেবল পেশাগত কষ্ট নয়, বরং ‘ব্যক্তিগত বেদনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্য আর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করতে না পারায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রধান দাবি: নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা
ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আইনের স্বাধীন প্রয়োগ অপরিহার্য বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। তার মতে:
- আইনের প্রয়োগ স্বাধীন না হলে ভোক্তার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা অসম্ভব।
- ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা না থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা ভেঙে পড়বে।
তিনি প্রশাসনের কাছে কেবল একটিই দাবি জানিয়েছেন—নিরপেক্ষভাবে এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন মাঠ পর্যায়ের সাহসী কর্মকর্তার এই আকুতি বাজার সিন্ডিকেট এবং প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের দিকেই আঙুল তুলছে। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় অধিদপ্তরকে যদি পুনরায় পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া না হয়, তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।



