অন্যান্য

অন্ধকার পথে দেশের অর্থনীতি: যোগ্যতার বিদায় আর খেলাপির সিংহাসন?

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ ব্যাংক—দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। কিন্তু এই হৃদপিণ্ডকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একের পর এক নাটকীয় এবং বিতর্কিত ঘটনা পুরো জাতিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে সফল কারিগর হিসেবে পরিচিত গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে মব জাস্টিসের মাধ্যমে অপমানজনক বিদায় এবং তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে নিয়োগের খবর জনমনে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে উত্তরণের কারিগর ছিলেন মনসুর

সাবেক আওয়ামী সরকারের আমলে ১০১ মিলিয়ন ডলার রিজার্ভ চুরি, ভল্টের স্বর্ণ নয়ছয় এবং এস আলম গ্রুপের নজিরবিহীন লুটপাটে দেশের ব্যাংক খাত যখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে, ঠিক তখনই দায়িত্ব নিয়েছিলেন আহসান এইচ মনসুর। তার সময়কালেই তলানিতে নামা রিজার্ভ আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল।

  • সাফল্য: রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন থেকে ৩৫ বিলিয়নে উন্নীত করা।
  • কঠোর অবস্থান: ঋণখেলাপিদের কোনো ছাড় না দেওয়া এবং ধ্বংসপ্রায় ৯টি ব্যাংককে ২৫ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়ে সচল করা।
  • আমানতকারীর ভরসা: দেশের প্রায় ৭৬ লাখ পরিবারের সাড়ে ৩ কোটি মানুষের আমানত ফেরতের নিশ্চয়তা তৈরি করেছিলেন তিনি।

‘মববাজি’ ও অপমানের বিদায়

দেশের অর্থনীতির এই সফল কারিগরকে যেভাবে বিদায় করা হয়েছে, তাকে ‘সংগঠিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে—যিনি মানুষের আমানত রক্ষার লড়াই করছিলেন, তাকে সরিয়ে দেওয়া মানে কি লুটপাটের নতুন সুযোগ করে দেওয়া?

“আমাদের টাকা ফেরত পাওয়ার আশা যখন জেগেছিল, তখনই দক্ষ মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এটা কি আবার টাকা চুরির বন্দোবস্ত?” — ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন একজন সাধারণ আমানতকারী।

গভর্নর পদে ঋণখেলাপি: ইতিহাসে নজিরবিহীন বিতর্ক

আহসান এইচ মনসুরের জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে। অভিযোগ রয়েছে, তার নিজেরই ৮৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে, যা মাত্র দুই মাস আগে পুন:তফশিল করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে এমন একজনকে বসানোকে দেশের আর্থিক খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে অস্থিরতা

শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক নয়, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাহসী চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের অব্যাহতি এবং ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার গুঞ্জন দেশকে এক অস্থির পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

জনগণের প্রশ্ন: দেশপ্রেমিক ও যোগ্য মানুষদের যদি এভাবে অপমানিত হয়ে বিদায় নিতে হয়, তবে ভবিষ্যতে আর কোনো দক্ষ ব্যক্তি দেশের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসবেন কি? অর্থনীতির এই টালমাটাল অবস্থায় সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষা হবে নাকি আবারও লুটপাটের শিকার হবে বাংলাদেশ—সেই উত্তর এখন সময়ের হাতে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button