আইন-শৃঙ্খলা

মনোহরদীর মনতলা আশরাফিয়া মাদ্রাসায় নৃত্য পরিবেশনা: দ্বীনি শিক্ষার মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন

জেলা প্রতিনিধিঃ সারোয়ার জাহান আরিফ

মনোহরদী উপজেলার মনতলা আশরাফিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় সম্প্রতি এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মঞ্চে প্রকাশ্যে নৃত্য পরিবেশনা হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবক, আলেম সমাজ ও সচেতন মুসলিম মহল।
অনুষ্ঠানের নামে বিতর্কিত আয়োজন
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মাদ্রাসার মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অতিথিদের উপস্থিতিতেই এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। পরে এর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।
স্থানীয়রা বলছেন,
“মাদ্রাসা যেখানে কুরআন-হাদিস ও নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়ার কেন্দ্র, সেখানে এমন আয়োজন অত্যন্ত দুঃখজনক।”
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সচেতন মহলের দাবি, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এমন আয়োজন সম্ভব নয়।
এক অভিভাবক বলেন,
“আমরা সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় দিই। সেখানে যদি নাচ-গানের পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে আমাদের আস্থা কোথায় থাকবে?”
সমাজে কী বার্তা যাচ্ছে?
এ ঘটনায় সমাজে যে বার্তা ছড়াচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকে। বিশ্লেষকদের মতে—
দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে
শিক্ষার্থীরা ভুল সংস্কৃতির দিকে ধাবিত হচ্ছে
মাদ্রাসার প্রতি মানুষের বিশ্বাস দুর্বল হচ্ছে
ভবিষ্যতে আরও অনৈতিকতার পথ খুলে যাচ্ছে
এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে সমাজ ও ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি
ঘটনার পর স্থানীয় আলেম সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আহ্বান—
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন
দায়ীদের চিহ্নিত করা
ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন ও মাদ্রাসার ইসলামি পরিবেশ পুনরুদ্ধার আবশ্যক।
মাদ্রাসা কোনো বিনোদন কেন্দ্র নয়; এটি ঈমান, চরিত্র ও আদর্শ গঠনের প্রতিষ্ঠান। সেখানে নৃত্য পরিবেশনার মতো কর্মকাণ্ড শুধু অনুচিতই নয়, বরং দ্বীনি শিক্ষার ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত আত্মসমালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনা।
এ বিষয়ে প্রশাসন ও মাদ্রাসা বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button