চট্টগ্রাম

১০ লাখ টাকার চোরাচালান মোবাইল উদ্ধার আদালতে প্রেরণ

মুহাম্মদ জুবাইর

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এর অভিযানে চোরাচালান করা ১৪টি মোবাইল জব্দ, গ্রেপ্তার ১

চট্টগ্রাম মহানগরীতে চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৪টি দামী মোবাইল ফোন জব্দ করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মোঃ সায়েম ৩৭ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে এসআই মোঃ লুৎফল আহসান ও সঙ্গীয় ফোর্স ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্পেশাল ২১ নৈশ ডিউটি পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন তথ্যে জানা যায়, এক ব্যক্তি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিদেশি মোবাইল ফোন বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানাধীন সিনেমা প্যালেস মোড় পাকা রাস্তার উপর অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে তার হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ দামী মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

আটক মোঃ সায়েম চট্টগ্রাম জেলার ডবলমুরিং থানার মনছুরাবাদ এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মোবাইল ফোনগুলোর বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ফলে মোবাইলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলোর মধ্যে রয়েছে দুটি আইফোন ১৪ ডিপ পার্পল ৫১২ জিবি, একটি আইফোন ১৪ স্টারলাইট ১২৮ জিবি, একটি আইফোন ১৪ পার্পল ১২৮ জিবি, একটি আইফোন ১৪ প্রো পার্পল ২৫৬ জিবি, একাধিক আইফোন ১৩ ১২৮ জিবি বিভিন্ন রঙের, দুটি আইফোন ১২ ১২৮ জিবি, একটি রেডমি নোট ১৩ ৮ ২৫৬ এবং একটি পিক্সেল ৮ প্রো। প্রতিটি মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর যাচাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পুলিশের ধারণা, চোরাচালান চক্র সীমান্তপথে বা অবৈধ উপায়ে মোবাইল ফোনগুলো দেশে এনে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে থাকে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এ ধরনের পণ্য বাজারজাত করার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ মোবাইল বাজারের বিস্তারের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা নং ৩৯ দ্যা স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট ১৯৭৪ এর ২৫বি ২৫ডি ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানায়, মহানগরীতে চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য আমদানি রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার থাকবে এবং অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button