আন্তর্জাতিকজাতীয়যুদ্ধ ও সংঘাত

জামাত তুমি কার? পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক

নূর হোসেন ইমাম (অনলাইন এডমিন): আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে মেরুকরণ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অন্যতম ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামী এই সংকটে কার পক্ষ নেবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে।‎​বিতর্কের মূলে জামায়াতে ইসলামী:‎বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াতে ইসলামী পুনরায় সক্রিয় হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতের সাথে পাকিস্তানের একটি আদর্শিক ও রাজনৈতিক সুসম্পর্ক থাকলেও, আফগান তালেবানের “ইসলামিক শাসনব্যবস্থা” অনেক জামায়াত কর্মীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। এই দ্বিমুখী অবস্থানে জামায়াত এখন একটি কৌশলগত সংকটে পড়েছে:‎​পাকিস্তানের পক্ষে: দলটির একটি অংশ মনে করে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পুরনো সম্পর্কের খাতিরে পাকিস্তানের অখণ্ডতাকে সমর্থন করা উচিত।‎​তালেবানের পক্ষে: অন্য একটি অংশ মনে করে, তালেবান একটি “খাঁটি ইসলামিক বিপ্লবের” প্রতীক, তাই মুসলিম উম্মাহর সংহতির খাতিরে তালেবানকে সমর্থন করা নৈতিক দায়িত্ব।‎​এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। তবে দলটির নেতারা ঘরোয়া আলোচনায় জানিয়েছেন, তারা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে যুদ্ধে জড়াতে চান না, বরং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চান। এদিকে সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—জামায়াত কি তাদের পুরনো “পাকিস্তানপন্থী” ইমেজে ফিরে যাবে, নাকি “ইসলামিক সংহতির” দোহাই দিয়ে তালেবানকে সমর্থন করবে?‎​পাকিস্তান ও তালেবানের মধ্যে এই যুদ্ধের কারণ কী?‎​পাকিস্তান ও আফগান তালেবানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ছায়া যুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:‎​টিটিপি (TTP) ইস্যু: পাকিস্তান সরকারের প্রধান অভিযোগ হলো, আফগান তালেবান তাদের দেশে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-কে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। টিটিপি গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে শত শত আত্মঘাতী হামলা ও সামরিক অভিযান চালিয়েছে।‎​সীমান্ত সংঘাত (ডুরান্ড লাইন): পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমানা বা ‘ডুরান্ড লাইন’ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পুরনো বিরোধ রয়েছে। তালেবান সরকার এই সীমানাকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে এবং প্রায়ই সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে।‎​আদর্শিক সংঘাত: পাকিস্তান একসময় তালেবানকে মদদ দিলেও এখন তারা তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য তালেবানকেই সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করছে। আজ সকালে পাকিস্তান বিমানবাহিনী কাবুল ও কান্দাহারে তালেবানের সামরিক স্থাপনায় শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়।‎​পারস্পরিক পাল্টা হামলা: গত কয়েকদিন ধরে আফগান বাহিনী পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালিয়েছে এবং বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সৈন্যকে বন্দি করার দাবি করেছে। এর প্রতিশোধ নিতেই পাকিস্তান আজ আনুষ্ঠানিকভাবে “অপারেশন গজব লিল হক” (Operation Ghazab Lil Haq) শুরু করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button