অপরাধআইন ও বিচারএক্সক্লুসিভদুর্নীতিবরিশালবাংলাদেশ

বাবার ক্ষমতা ও টেন্ডারবাজিতে কোটিপতি: কারাগারে বাবা বউ নিয়ে লাপাত্তা অনিক, বিপাকে তৃণমূল কর্মী

নূর হোসেন ইমাম ( অনলাইন এডমিন)​আওয়ামী লীগ সরকারের টানা শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাজি এবং অবৈধ আয়ের পাহাড় গড়ে এখন বউ নিয়ে এক প্রকার হানিমুনে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক। দীর্ঘ ৮ বছর জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে থেকে এবং বাবার রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বরগুনার ‘অঘোষিত সম্রাট’ হয়ে উঠেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।​পারিবারিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার​অনিকের এই বিপুল অর্থ-বিত্তের পেছনে মূল চাবিকাঠি ছিল তার বাবা জাহাঙ্গীর কবিরের প্রভাব। জাহাঙ্গীর কবির দীর্ঘ সময় বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের ‘গার্ডিয়ান’ হিসেবে পরিচিত বাবার ক্ষমতার ছায়াতলে থেকে অনিক নিয়ন্ত্রণ করতেন জেলার যাবতীয় সরকারি টেন্ডার ও উন্নয়ন কাজ।​টেন্ডারবাজি ও অবৈধ আয়ের রাজত্ব​স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে বরগুনার যেকোনো ছোট-বড় সরকারি উন্নয়ন কাজে ‘পার্সেন্টেজ’ বা ভাগ দেওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। অনিক ও তার সিন্ডিকেটের অনুমতি ছাড়া কোনো ঠিকাদারের পক্ষে কাজ পাওয়া ছিল অসম্ভব। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে রয়েছেন অনিক।​তৃণমূলের ক্ষোভ: নেতার আড়ালে ‘সুবিধাবাদী’​সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ বিরাজ করছে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, কোটি কোটি টাকা কামালেও অনিক সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিপদে কখনোই পাশে ছিলেন না। বর্তমানে দলের এই দুঃসময়ে এবং অসংখ্য কর্মী হামলা-মামলার শিকার হলেও কারাগারে থাকা কোনো কর্মীর খোঁজ নেননি তিনি।​তৃণমূলের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন:​”অনিকরা যখন কোটি কোটি টাকা বানিয়েছেন, তখন আমাদের মতো সাধারণ কর্মীদের কথা ভাবেননি। আজ তাদের মতো পথভ্রষ্ট এবং লোভী নেতাদের কারণেই দলের এই বিপর্যয়। তারা নিজেরা আখের গুছিয়ে এখন কর্মীদের বিপদে ফেলে আড়ালে চলে গেছেন।”​রাজনীতির পথভ্রষ্টতা ও দলের অধপতন​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুবায়ের আদনান অনিকের মতো অসংখ্য নেতার ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দুর্নীতি এবং জনবিচ্ছিন্নতাই মূলত আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। যখন আদর্শের চেয়ে অর্থ এবং পরিবারের ক্ষমতা বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন রাজনীতির মূল লক্ষ্য বিচ্যুত হয় যার বাস্তব উদাহরণ এখন বরগুনার এই সাবেক ছাত্রনেতা।​বর্তমানে অনিকের অবৈধ সম্পদের উৎস এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button