পাহাড়তলী বিটাক মোড়ে রক্তাক্ত রাত,দিন দিন বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্ক,এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

মুহাম্মদ জুবাইর
চট্টগ্রামে সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন আকাশ, পাহাড়তলীতে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু
মহানগরীর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধীন পাহাড়তলী থানা এলাকায় দিন দিন বাড়ছে কিশোর গ্যাংদের দৌরাত্ম্য,হত্যা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা।সর্বশেষ বিটাক মোড় সংলগ্ন এসটেক প্লাস্টিক ফ্যাক্টরির সামনে সংঘবদ্ধ হামলায় নিহত হয়েছেন আকাশ দাশ ২৬। সহকর্মীকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারানো, এই তরুণের মৃত্যু এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।স্থানীয়দের দাবি,দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তার,মারামারি, রাহাজানি ও মাদক সংশ্লিষ্ট তৎপরতা চললেও কার্যকর প্রতিরোধ না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,এসটেক ফ্যাক্টরির শোল্ডার শাখার কর্মচারী মাইকেল নামে এক তরুণকে পূর্ব বিরোধের জেরে কয়েকজন যুবক ফ্যাক্টরির গেট থেকে টেনে বাইরে নিয়ে যায়।বিষয়টি জানতে পেরে আকাশ দাশ এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে মূল ফটকে নিয়ে আসেন। এ সময় হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে আকাশের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী,এক আসামি মোটরসাইকেল থেকে নেমে হেলমেট দিয়ে আকাশের মাথায় আঘাত করে।অপর আসামি ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করলে তার ডান রানের পেছনে,বাম পাঁজরে ও বাম পায়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।অন্যরা কিলঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা বাবুল দাশ বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়েছে,পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে তারা এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। পুলিশ জানিয়েছে,সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন,বিটাক মোড়,বাইন্নাপাড়া,বশর কলোনী ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয়।তারা প্রকাশ্যে মহড়া দেয়,মোটরসাইকেল শোডাউন করে এবং সামান্য বিরোধে সংঘবদ্ধ হামলা চালায়।সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ চলাচলে ভীতি অনুভব করেন।
ব্যবসায়ীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,এলাকায় চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে,কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি চলছে।পাহাড়তলী থানার কর্মকর্তারা আমাদের এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন,হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।একই সঙ্গে এলাকায় টহল জোরদার ও সন্দেহভাজনদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আকাশ দাশের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারকে শোকাহত করেনি,বরং পুরো পাহাড়তলী এলাকাকে নাড়া দিয়েছে। সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারানো এই তরুণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং এলাকায় কিশোর গ্যাং দমন এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল ও এলাকাবাসী।



