
মুহাম্মদ জুবাইর: পাখির বিষ্ঠা, ইঁদুর তেলাপোকা, পা দিয়ে খামি মাখানো, প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ কারখানাচট্টগ্রামের চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকার চাকতাই রাজাখালীর মসজিদের পাশেই ৪৭ নং কারখানা এমরান সেমাই ফ্যাক্টরিতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বাংলা সেমাই।পবিত্র মাহে রমজানকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র প্রকাশ্যে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করলেও কার্যকরভাবে থামানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ভবনের ছাদের উপর খোলা আকাশের নিচে বাঁশের কঞ্চি ও রশি দিয়ে তৈরি অস্থায়ী চাটাইয়ে সেমাই শুকানো হচ্ছে।সেখানে বিভিন্ন জাতের পাখি বসে মলত্যাগ করছে,আর সেই একই স্থানে খাদ্যপণ্য খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। স্বাস্থ্যবিধির ন্যূনতম মানদণ্ডও মানা হচ্ছে না।প্রতিবেদকের চোখে পড়ে, কারখানার ভেতরে তেলাপোকা ঘুরে বেড়াচ্ছে, মেঝেতে ইঁদুরের বিষ্ঠা ছড়িয়ে আছে, এমনকি বিড়ালের মলও দেখা যায়। মৃত তেলাপোকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে খোলা ময়দার বস্তার পাশে। দূষিত পানি ও নিম্নমানের ময়দা দিয়ে খামি তৈরি করা হচ্ছে। সেই খামি শ্রমিকরা পা দিয়ে চাপিয়ে মাখাচ্ছেন। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নেই কোনো গ্লাভস, নেই হেয়ার ক্যাপ, নেই স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ। খাদ্য নিরাপত্তা আইন পুরোপুরি উপেক্ষা করে চলছে এ কার্যক্রম।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযান চললেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আবারও চালু হয়ে যায় এসব কারখানা। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ড দিলে এবং স্থায়ীভাবে সিলগালা করলে তবেই বন্ধ হতে পারে এ ধরনের নোংরা ফ্যাক্টরি। অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এসব কারখানার নেই কোনো বৈধ লাইসেন্স, নেই সঠিক অনুমোদন, ফলে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, আর অসাধু চক্র রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়ছে।খাদ্যপণ্য উৎপাদনের মতো স্পর্শকাতর শিল্প পরিচালনার জন্য একাধিক সরকারি দপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন। একটি সেমাই ফ্যাক্টরি বৈধভাবে পরিচালনা করতে হলে সিটি কর্পোরেশন অথবা পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হয়। এছাড়া বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এর খাদ্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বিএসটিআই সনদ ছাড়া খাদ্যপণ্য বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র, অগ্নিনির্বাপন ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ফায়ার লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন ও টিআইএন সনদ, কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নিবন্ধনও থাকতে হয়। এসব অনুমোদন ছাড়া খাদ্যপণ্য উৎপাদন সম্পূর্ণ অবৈধ।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের নোংরা পরিবেশে তৈরি খাদ্যপণ্য মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। পাখির বিষ্ঠা, ইঁদুরের মল, তেলাপোকার সংস্পর্শে থাকা খাবার থেকে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, ফুড পয়জনিংসহ নানা সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে রমজানে সেমাই একটি বহুল ব্যবহৃত খাদ্য হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ কারখানা চিরতরে বন্ধ করা হোক, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, এবং জনস্বার্থে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হোক।



