বরগুনায় আতঙ্কের নাম এসআই সোহেল: মাদক সিন্ডিকেট ও গ্রেফতার বাণিজ্যে বেপরোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনা সদর থানায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেলের বিরুদ্ধে উঠেছে ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ। বদলির আদেশ আসলেও অদৃশ্য শক্তিতে তা বাতিল করে বছরের পর বছর একই এলাকায় অবস্থান করে তিনি গড়ে তুলেছেন ত্রাসের রাজত্ব। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন এক ‘আতঙ্কের নাম’।
মাদক কারবারিদের ‘সেফ গার্ড’ ও সেবন: অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরগুনার মাদক নেটওয়ার্কের অন্যতম নিয়ন্ত্রক এই এসআই সোহেল। ডৌয়াতলার চিহ্নিত মাদক সম্রাট ওয়াসিমসহ বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে তার সখ্যতা ওপেন সিক্রেট। অভিযোগ রয়েছে, সোহেল নিজে মাদক কারবারিদের গোপন আস্তানায় বসে নিয়মিত মাদক সেবন করেন। শুধু তাই নয়, পৌরসভা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে থানার শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসূত্র স্থাপন এবং মাসিক মাসোহারা (টাকা) আদায়ের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবেও তিনি পরিচিত।
রাজনৈতিক ডিগবাজি ও গ্রেফতার বাণিজ্য: ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এসআই সোহেলের রূপ পাল্টে গেছে নাটকীয়ভাবে। এক সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও এখন নিজের পদ ও প্রভাব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে বিএনপির ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন তিনি। ৫ই আগস্টের আগে যারা তার রোষানলের শিকার হয়েছিলেন, এখন তাদেরই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের টার্গেট করে তিনি শুরু করেছেন ভয়ংকর ‘গ্রেফতার বাণিজ্য’। গভীর রাতে নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দেওয়া, মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই এখন তার প্রধান পেশা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা না দিলেই কপালে জুটছে মামলা কিংবা অমানবিক নির্যাতন।
বদলি ঠেকাতে টাকার খেলা: সাধারণত একজন পুলিশ কর্মকর্তা নির্দিষ্ট সময় পর বদলি হওয়ার নিয়ম থাকলেও সোহেলের ক্ষেত্রে তা ব্যতিক্রম। একাধিকবার তার বদলির নোটিশ আসলেও ‘উপর মহলে’ মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তিনি বারবার সেই আদেশ শিথিল করিয়ে বরগুনাতেই গেড়ে বসেছেন। বিপর্যস্ত জনজীবনএকজন পুলিশ সদস্যের এমন অপেশাদার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বরগুনার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রক্ষক যখন ভক্ষক হয় এবং মাদক ও চাঁদাবাজির পৃষ্ঠপোষকতা করে, তখন সমাজের আইন-শৃঙ্খলার বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে ওঠে।এই বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এসআই সোহেলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগী এলাকাবাসী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশেষ প্রতিবেদনে থাকছে বিস্তারিত।



