ড্রেজারে বালু লুট,টোকেনে চলে ট্রাক,কর্ণফুলী নদী রক্ষায় প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ

মুহাম্মদ জুবাইর
বাকলিয়া-কর্ণফুলী নদীর বালুমহলে পলাতক সোলাইমানের সাম্রাজ্য,কর্ণফুলীতে অবৈধ বালু সাম্রাজ্য, ডজন মামলার পলাতক সোলাইমানের নিয়ন্ত্রণে কোটি টাকার বাণিজ্য ,
চট্টগ্রামের বাকলিয়া ও কর্ণফুলী এলাকায় কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন।অভিযোগ উঠেছে,ডজন মামলার পলাতক সোলাইমান নামে এক ব্যক্তি কর্ণফুলীর বালুমহলের অঘোষিত সম্রাট হিসেবে পুরো অবৈধ বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।
স্থানীয়দের দাবি,কোনোভাবেই কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না।প্রতিদিন প্রতিটি পয়েন্টে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার বালু পাচারের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। দৈনিক বাণিজ্য কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ড্রেজার মেশিন দিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু তোলা হচ্ছে।বিশেষ করে কর্ণফুলী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সোলাইমানের নিয়ন্ত্রিত অবৈধ বালু সেল সেন্টারে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে ট্রাকে করে নগরীহহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়,অন্তত পাঁচ শতাধিক ট্রাক ও ডাম্পার নিয়মিত বালু পরিবহন করছে।বোয়ালখালী,পটিয়া,আনোয়ারা, বাঁশখালী, রাউজান, সীতাকুণ্ড চন্দনাইশসহ বিভিন্ন উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে এসব বালু বিক্রি হয়।বালুবাহী গাড়িগুলো টোকেনের মাধ্যমে চলাচল করে।অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে পুলিশ থেকে টোকেন নেওয়া হয়।
অভিযোগ আছে,বাকলিয়া ও কর্ণফুলী থানা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করেই নির্বিঘ্নে চলছে এই অবৈধ বাণিজ্য। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।
অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।নদীর তলদেশ গভীর হওয়ায় আশপাশের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। নদীভাঙন বাড়ছে,পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ১০টার দিকে কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে ট্রাকে লোড করা হচ্ছে। সরাসরি অভিযুক্ত সোলাইমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাকলিয়া ও কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, আমরা একাধিকবার ড্রেজারসহ বালুভর্তি ট্রাক জব্দ করেছি। যারা বালু কাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে,অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান ছাড়া কর্ণফুলী নদীকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই অবৈধ সাম্রাজ্যের লাগাম টেনে ধরতে।



