নিকুঞ্জে ডেসকো ভবনের পলেস্তারা ও টাইলস ধসে প্রাইভেটকার ক্ষতিগ্রস্ত: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মুসল্লিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকায় ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) একটি সাবস্টেশন ভবনের পলেস্তারা ও টাইলস ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। তবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন মসজিদে নামাজ পড়তে আসা শত শত মুসল্লি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের সময় নিকুঞ্জ কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন ডেসকোর বহুতল ভবনটিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও নিচে পার্ক করে রাখা একটি প্রাইভেটকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ২টার দিকে জুমার নামাজ চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে ডেসকো ভবনের ওপরের অংশ থেকে ভারী টাইলস ও পলেস্তারা প্রধান সড়কে ধসে পড়ে। সে সময় মসজিদের ভেতরে শত শত মুসল্লি অবস্থান করছিলেন। নিচে কেউ না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। তবে সড়কে পার্ক করে রাখা এস এম ফজলে রাব্বি পল্লব নামের এক মুসল্লির প্রাইভেটকারটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নামাজ শেষে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, তার গাড়ির ওপর ভবনের টাইলসের স্তূপ জমে আছে।
ঘটনার পরপরই সেখানে শত শত উৎসুক জনতা ও মুসল্লি ভিড় জমান। উপস্থিতরা জানান, ওই মুহূর্তে সেখানে কেউ অবস্থান করলে প্রাণহানি অনিবার্য ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডেসকোর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভবনে নির্মাণকাজে চরম অবহেলা ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এর আগেও ভবনটির দেয়াল থেকে ছোটখাটো অংশ খসে পড়ার নজির রয়েছে বলে জানান তারা। এতে ভবনটির স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিক এস এম ফজলে রাব্বি পল্লব বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ডেসকো কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে তাকে ‘লিখিত অভিযোগ’ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে দায় সেরেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ডেসকো কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় স্থানীয়রা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এর প্রতিবাদে উপস্থিত জনতা ডেসকোর অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্ন— “আজ শুধু একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু কাল যদি কোনো শিশু বা পথচারীর মাথায় এ পাথর পড়ত, তবে সেই লাশের দায়ভার কে নিত?”
জনবহুল এলাকায়, বিশেষ করে মসজিদের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই ভবনটি দ্রুত মেরামত করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ভবনটির নির্মাণমান ও প্রকৌশলগত ত্রুটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন নিকুঞ্জবাসী।



