ফেঞ্চুগঞ্জে সালিশ বৈঠকে সশস্ত্র হামলা: যুবকের শ্বাসনালী কেটে হত্যাচেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট): সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ছত্রিশ গ্রামে পাওনা টাকার বিরোধ মেটাতে ডাকা এক সালিশ বৈঠকে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আয়মন আহমেদ নামের এক যুবকের শ্বাসনালী কেটে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
টাকা নিয়ে বিরোধ ও মারধর স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাওনা টাকা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক লাভলু মিয়ার ছেলে আলামিনের সঙ্গে একই গ্রামের পুতুল মিয়ার ছেলে রুমনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে গতকাল সন্ধ্যায় মাইজগাঁও রেলস্টেশন এলাকায় আলামিনকে মারধর করে তার কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
সালিশে অতর্কিত হামলা রেলস্টেশনের ওই ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ছত্রিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ফুলসার টিলা যাওয়ার সড়কে অবস্থিত মঞ্জিল মিয়ার চায়ের হোটেলে এক সালিশ বৈঠক বসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সালিশ চলাকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলার প্রস্তুতি নেয়। হামলাকারীরা মূলত আলামিনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে তাকে না পেয়ে তার ফুফাতো ভাই আয়মন আহমেদের ওপর তারা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আয়মনের গলায় আঘাত করা হলে তার শ্বাসনালী কেটে যায় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
উদ্ধার ও এলাকাবাসীর দাবি হামলার পরপরই মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় আয়মনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানে তার নিবিড় চিকিৎসা চলছে।
এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে এমন বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



