হবিগঞ্জে বিতর্কের মুখে একই দিনে বাহুবলের ইউএনও ও এসিল্যান্ড বদলি২ মার্চ, ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়াকে কেন্দ্র করে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি মতবিনিময় সভার আয়োজন নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে একই দিনে বাহুবল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন চন্দ্র দে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলামের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। হঠাৎ এ বদলির ঘটনায় প্রশাসনিক মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত রবিবার সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে (ইউএনও) লিটন চন্দ্র দেকে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
অপরদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ তানভীর হাসান রুমানের স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসিল্যান্ড মাহবুবুল ইসলামকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এর আগে গত (২৬ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার দুপুরে বাহুবল উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার সহধর্মিণী সিমি কিবরিয়া। সভায় তার দুই পাশে বসেন ইউএনও লিটন চন্দ্র দে, বাহুবল মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলাম।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এর একদিন আগে গত বুধবার নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে হবিগঞ্জ-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. রেজা কিবরিয়া। তবে সভা শুরুর কিছুক্ষণ পর তিনি সভাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে প্রধান অতিথির আসনে বসেন তার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া এবং উপস্থিত কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে তিনি উপজেলা পরিষদ এলাকা ঘুরে দেখেন। এসময় (ইউএনও) মোঃ রুহুল আমিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম তার সঙ্গে ছিলেন। একইদিন সকালে সিমি কিবরিয়া নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন। আইনসংশ্লিষ্টদের মতে, এসব কর্মসূচি সরকারি বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
সরকারি কার্যবিধি (জঁষবংড়ভ ইঁংরহবংং, ১৯৯৬) অনুযায়ী প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সভা, মতবিনিময় বা সরকারি দপ্তর পরিদর্শনে অংশগ্রহণের সুযোগ কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত জনপ্রতিনিধির জন্য নির্ধারিত। সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হওয়ায় তাকে এমন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা কিংবা প্রশাসনের অংশগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য থেকে নির্বাচিত হওয়ার পরের কর্মকাণ্ড এমপি পত্নী সিমি কিবরিয়াকে ঘিরে একের পর এক ইস্যু নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিমি কিবরিয়া প্রধান অতিথির মতো বসা, সরকারি দপ্তর ঘোরা এবং বক্তব্যে নির্দেশনা দেওয়ার ভঙ্গি এই সবকিছু মিলিয়ে সিমি কিবরিয়াকে দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, তিনি যেন কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা ক্ষমতাসীন প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব।
সরকারি অনুষ্ঠানে সিমি কিবরিয়ার উপস্থিতি ও আইনি বৈধতা নিয়ে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন স্থানীয় গমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, হবিগঞ্জের পূর্বের কোনো এমপি বা জনপ্রতিনিধির স্ত্রীকে নিয়ে এমন প্রশাসনিক তৎপরতা আগে দেখা যায়নি।
বিতর্ক তীব্র আকার নেওয়ার পরপরই একদিনের ব্যবধানে ইউএনও ও এসিল্যান্ডের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হয়, যা স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে



