খালেদা জিয়াসহ ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার

মুহাম্মদ জুবাইর
গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি,মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খালেদা জিয়া
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খালেদা জিয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।তার সময়েই গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের শিক্ষা প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ, সড়ক ও যোগাযোগ খাতে বড় প্রকল্প গ্রহণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।এছাড়া গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ(মুক্তিযুদ্ধ), প্রয়াত মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল(মুক্তিযুদ্ধ), অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম(বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল(চিকিৎসা বিদ্যা), প্রয়াত ড. আশরাফ সিদ্দিকী(সাহিত্য), হানিফ সংকেত(সংস্কৃতি), প্রয়াত বশির আহমেদ(সংস্কৃতি) এবং জোবেরা রহমান লিনু(পল্লী উন্নয়ন)।
সমাজসেবা ও জনকল্যাণে অবদানের জন্য প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী, SOS Children’s Villages International in Bangladesh, মো. সাইদুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।
জনপ্রশাসনে অবদানের জন্য প্রয়াত কাজী ফজলুর রহমান স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মোহাম্মদ আবদুল বাকী পিএইচডি, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।
অন্যদিকে পল্লী উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন(পিকেএসএফ) এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
সরকার জানায়, দেশের উন্নয়ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবছর স্বাধীনতা পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মাননা দেওয়া হয়।



