অপরাধএক্সক্লুসিভচট্টগ্রামচট্টগ্রাম বিভাগবাংলাদেশবিভাগবিশেষ প্রতিবেদন

রমজানেও থামেনি ফয়েজ লেকে দেহ ব্যবসা, অভিযানে নারী পুরুষ গ্রেপ্তার

মুহাম্মদ জুবাইর: পর্যটন এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ,ফয়েজ লেকে পুলিশের অভিযানে দুইজন আটকFoy’s Lake এলাকায় রমজান মাসেও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।নগরীর জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত এই স্থানে দিন ও রাতের আঁধারে নারী দিয়ে দেহ ব্যবসা চলছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা।তাদের মতে প্রশাসন চাইলে খুব সহজেই এসব অবৈধ কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব,কিন্তু বাস্তবে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করা হলেও মূল হোতাদের বিরুদ্ধে তেমন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।স্থানীয়দের ভাষ্য,পবিত্র রমজান মাসেও ফয়েজ লেক এলাকায় দেহ ব্যবসা বন্ধ হয়নি। বরং গভীর রাত হলেই বিভিন্ন স্থান থেকে নারী এনে খদ্দেরদের সঙ্গে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো হচ্ছে। এতে এলাকাটির পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তরুণ সমাজ বিপথে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ধীরে ধীরে পর্যটকদের আকর্ষণের জায়গা হিসেবে পরিচিত এই এলাকা পতিতাদের আড্ডাখানায় পরিণত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।শনিবার ৭ মার্চ রাত আনুমানিক ২টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে এক নারী ও এক পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে Chattogram Metropolitan Police এর Khulshi Police Station। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা Mohammad Jahedul Islam এর নেতৃত্বে সহকারী উপপরিদর্শক Md. Enamul Haque সঙ্গীয় সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালানো হলে ফয়েজ লেক এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ ইমরান হোসেন ৩০। তিনি Fatikchhari Upazila উপজেলার ধমনুর আজাদী বাজার হাজী বকসু মিস্ত্রীর বাড়ির বাসিন্দা। অপরজন সিলভী আক্তার ১৯, তার বাড়ি Madaripur Sadar Upazila এর গংগারামপুর এলাকায়।পুলিশ জানায় এ ঘটনায় খুলশী থানায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ৭৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম।।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ অভিযানে সাধারণত নারী ও খদ্দের গ্রেপ্তার হলেও যারা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে বা গোপনে আস্তানা ও আবাসন দিয়ে দেহ ব্যবসা চালাতে সহায়তা করে তাদের বিরুদ্ধে খুব কমই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী জানান আমরা প্রায়ই প্রশাসনের অভিযানের কথা শুনি কিন্তু যারা পতিতা নিয়ে ব্যবসা করে বা গোপনে আবাসন দিয়ে এসব পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তারের খবর খুব একটা শোনা যায় না। বেশিরভাগ সময় নারী ও খদ্দেরই ধরা পড়ে।পুলিশ সূত্র জানায় ফয়েজ লেকসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সময় সময় অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হলেও পুরোপুরি এসব কার্যক্রম বন্ধ করা এখনও সম্ভব হয়নি।এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবি শুধু অভিযান নয় বরং মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ফয়েজ লেক এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় পর্যটকদের জন্য পরিচিত এই এলাকা ধীরে ধীরে অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button