চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেয়েকে উ’ত্য’ক্তে’র প্র’তি’বাদে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মো: রাজন পাটওয়ারী, চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত কৃষকের নাম মো. জাকির হোসেন মিয়াজি (৪৫)। তিনি পাঁচ সন্তানের জনক এবং কৃষিকাজ করে পরিবার নিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন মিয়াজির দ্বিতীয় মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কিছু বখাটে যুবক তাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নাছির হোসেন মিয়াজির ছেলে ফাইম মিয়াজী (২৪), আইনুল কবির ফটিকের ছেলে মো. সাফিন (২৩), নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী ও মহসিন শিকদারের ছেলে রিয়াদ শিকদারসহ আরও ১০-১৫ জনের একটি দল।
এ ঘটনায় জাকির হোসেন মিয়াজি বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজার এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (৮ মার্চ) ভোরে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই হোসেন মিয়াজি চাঁদপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় কয়েকজন যুবক প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করত। বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরপরই তার বাবার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহতের বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, “আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। মেয়ের সম্মানের জন্য প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এখন ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি।”
এ বিষয়ে নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্ল্যা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, হামলার ঘটনায় আহত অবস্থায় জাকির হোসেনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।



