নতুন স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা, বালুচর এখন সবুজের সমারোহ

আনোয়ার হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রংপুর অঞ্চলে বছর পাঁচেক আগেও ছিল বন্যার তাণ্ডব। কখনো আকস্মিক, কখনো মৌসুমি বন্যায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছিল শত শত পরিবার। মাইলের পর মাইল ফসলি জমিতে বালুর স্তূপ জমে কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন হাজারো মানুষ। তবে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে বদলে গেছে সেই চিত্র। বালুচরেই এখন সবুজের সমারোহ। কৃষকরা ফলাচ্ছেন ২৮ প্রকার ফসল। ভাগ্য বদলের লড়াইয়ে নেমেছেন বানভাসি মানুষজন।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিস জানিয়েছে, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় এক হাজার ৩৭৬টি চর রয়েছে। এই চরগুলোতে গম, ভুট্টা, চিনাবাদাম, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, স্কোয়াশ, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন, ধনিয়া, কালোজিরা, সূর্যমুখী, সরিষা, কলা, আলু, মিষ্টিআলু, তিল, মেথি মসুর ডালসহ ২৮ প্রকার ফসল চাষ হয়েছে। যার জমির পরিমাণ এক লাখ ৯১ হাজার ৮১৯ হেক্টর।
এর মধ্যে রংপুরের চার উপজেলায় ৬৭টি চরে সাত হাজার ৯৬৮ হেক্টর, গাইবান্ধার ছয় উপজেলার ১৬০টি চরে ৩১ হাজার ৬৫৮ হেক্টর, কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় ৩৬৮টি চরে ৫৪ হাজার ২৯৮ হেক্টর, লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার ৫৯টি চরে আট হাজার ৫৭১ হেক্টর এবং নীলফামারীর তিনটি উপজেলার ৩৪টি চরে তিন হাজার ৪৩ হেক্টর জমিতে এই ফসল ফলাচ্ছেন চাষিরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কৃষকরা ব্যস্ত হাতে পরিচর্যা করছেন বিভিন্ন মৌসুমি ফসল। কোথাও ক্ষেতে সেচ দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার ভুট্টা ও শাক-সবজির জমিতে চলছে আগাছা পরিষ্কার ও সার প্রয়োগের কাজ। ভোরের আলো ফুটতেই মাঠে নেমে পড়ছেন কৃষকরা; দুপুরের রোদ উপেক্ষা করেও থেমে নেই তাঁদের পরিশ্রম। বন্যার ক্ষতচিহ্ন এখনো পুরোপুরি মুছে না গেলেও নতুন স্বপ্ন বুনছেন তাঁরা ফসলের সবুজ আবাদে।
চরের কৃষক নজির হোসেন বলেন, ‘চর এখন আমাদের ভাগ্য বদলাচ্ছে। চরে পানির সমস্যা, যাতায়াত সমস্যা, অর্থাৎ খাটুনি বেশি। কিন্তু এই চরে আবাদ না হলে ঢাকায় গিয়ে ভিক্ষা না হয় রিকশা চালাতে হতো। এখন বাড়িতেই থেকে কষ্ট করে চাষ করছি। লাভও বেশ হচ্ছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম বলেন, কষকদের নানাভাবে সহযোগিতা করছি আমরা। তাঁদের প্রণোদনার আওতায় আনা হচ্ছে। বীজ দেওয়া হচ্ছে। যখন যে সমস্যা সেটা আমরা ফেস করছি।



