আন্তর্জাতিক

লেবাননে ইসরায়েলি হেলিকপ্টার অবতরণ ঘিরে তীব্র সংঘাত; মার্কিন সেনা আটকের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ঢাকা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লেবানন এবং ইরানে নতুন করে সংঘাত ও সামরিক তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই এবং ইরানে মার্কিন সেনা আটকের দাবি ঘিরে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও সংঘাত সোমবার পূর্ব লেবাননের বেক্কা উপত্যকা এবং নবিশিদ অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের তীব্র লড়াইয়ের খবর নিশ্চিত করেছে লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।

  • হেলিকপ্টারে অনুপ্রবেশ: সশস্ত্র সংগঠনটির এক বিবৃতি অনুযায়ী, ওই এলাকায় প্রায় ১৫টি ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টারের অনুপ্রবেশ শনাক্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের ধাঁচে ইসরায়েলের কোনো বিশেষ কমান্ডো ইউনিট এই রেইড পরিচালনার চেষ্টা করেছিল।
  • হতাহতের দাবি: প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে তারা উপযুক্ত অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা এবং দুই দখলদার সেনার নিহত হওয়ার দাবি করেছে সংগঠনটির বেক্কা অঞ্চলের কর্মকর্তারা।

মার্কিন সেনা আটকের দাবি ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অন্যদিকে, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি দাবি করেছেন যে, ইরানে অভিযান চালাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আমেরিকান সেনা আটক হয়েছেন। তার দাবি, আমেরিকা এই ঘটনা লুকানোর চেষ্টা করলেও বেশিদিন তা গোপন রাখতে পারবে না।

  • মার্কিন প্রত্যাখ্যান: যদিও আপনার প্রদত্ত তথ্যে মার্কিন প্রতিক্রিয়া ছিল না, তবে বাস্তব ঘটনা হলো—মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ইরানের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, সেনা আটকের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি ইরানের প্রচারণার একটি অংশ।

ইরান ও লেবানন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রিপাবলিকান মিত্রদের সঙ্গে ইরানে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পরিবর্তে সীমিত সেনা মোতায়েন নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।

  • ইউরেনিয়াম শঙ্কা: মূলত, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৫০ কিলোগ্রাম মজুতকৃত ইউরেনিয়াম দিয়ে অস্ত্র তৈরির আশঙ্কা থেকে এই স্থল অভিযানের কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। লক্ষ্য হলো, ইরান থেকে সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া।
  • ইসরায়েলের লক্ষ্য: শুধু ইরান নয়, লেবাননেও স্থল অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়ে অনড় ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য হলো লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা এবং এই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সামরিক অভিযান চলতে থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button