
অধ্যাপক এম এ বার্ণিক
বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে আসন্ন দিনগুলোতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন ও নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে শপথ নেওয়া সদস্যরা যদি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেন, তবে তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
বিশিষ্ট বিশ্লেষক অধ্যাপক এম এ বার্ণিক ‘জুলাই সনদের আলোকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান যুদ্ধের বিকল্প প্রস্তুতি’ শীর্ষক তার এক সাম্প্রতিক নিবন্ধে এমন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।
গণপরিষদ ও ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রা অধ্যাপক বার্ণিকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জুলাই সনদের ভিত্তিতে যারা গণপরিষদ (Constituent Assembly)-এর সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, তারা যদি সংসদের সাধারণ কার্যসূচির বাইরে গিয়ে সংবিধান প্রণয়নের জন্য একটি পৃথক বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেন, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হবে। এই সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় যদি ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, তবে তা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর করা সম্ভব।
সরকারি দলের জন্য চ্যালেঞ্জ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি দল এক কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখোমুখি হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সাধারণত সংবিধান সংশোধন বা পুনর্লিখনের উদ্যোগ সরকারি দলের পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়। কিন্তু সংসদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যদি সংসদীয় বিধির আলোকে এই ধরনের স্বাধীন উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে তা আইনগতভাবে প্রতিরোধ করা সরকারপক্ষের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এর ফলে সংসদের ভেতরে এক নতুন ধরনের সাংবিধানিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে।
জনগণের ম্যান্ডেট ও নতুন সংজ্ঞা নিবন্ধটিতে আরও বলা হয়েছে যে, সংসদ সদস্যরা যখন একটি গণভিত্তিক রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের (যেমন: জুলাই সনদ) ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসেন, তখন রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোকে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা তাদের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়।
অধ্যাপক বার্ণিক মনে করেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়নের এই উদ্যোগ যদি বাস্তব রূপ পায়, তবে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতি এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়াবে। এই প্রক্রিয়া সফল হলে তা শুধু একটি নতুন সংবিধানই উপহার দেবে না, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো ও রাজনৈতিক ভারসাম্যেরও নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করবে।



