জাতীয়প্রশাসন

সরকারি গাড়ির সিসি কমালে বছরে বাঁচতে পারে ৫৩৫ কোটি টাকা: প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নাগরিক প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্র পরিচালনার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন সজীব নামের এক সচেতন নাগরিক। তাঁর এই প্রস্তাবে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত বড় সিসির গাড়ির বদলে সাশ্রয়ী গাড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে বছরে শত শত কোটি টাকা বাঁচানোর একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৪.৫ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ আনুমানিক প্রায় ৬,৫০০টি সরকারি গাড়ি নিয়মিত ব্যবহার করেন। অভিযোগ উঠেছে, এই গাড়িগুলোর বড় একটি অংশই ২৭০০ থেকে ৩০০০ সিসি ইঞ্জিনের, যার জ্বালানি খরচ অত্যধিক এবং বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা একটি বড় অপচয়।

জ্বালানি ও অর্থ সাশ্রয়ের তুলনামূলক হিসাব

প্রস্তাবনায় দেখানো হয়েছে যে, ২৭০০-৩০০০ সিসির একটি গাড়ি প্রতি লিটার জ্বালানিতে গড়ে মাত্র ৩-৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। অন্যদিকে ১৫০০ সিসির সাধারণ বা হাইব্রিড গাড়ি প্রতি লিটারে প্রায় ১৪-১৮ কিলোমিটার চলতে সক্ষম। একজন কর্মকর্তা মাসে গড়ে ২৫০০ কিলোমিটার গাড়ি ব্যবহার করলে যে হিসাব দাঁড়ায়, তা রীতিমতো চমকপ্রদ:

সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুবিধা: আনুমানিক ৬,৫০০ গাড়ির ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আনা হলে প্রতি মাসে প্রায় ৩৬ লক্ষ ২৭ হাজার লিটার জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার জ্বালানির মূল্য ১২৩ টাকা ধরলে:

  • মাসিক সাশ্রয়: প্রায় ৪৪ কোটি ৬২ লক্ষ টাকার বেশি।
  • বার্ষিক সাশ্রয়: প্রায় ৫৩৫ কোটি টাকা।

সরকারি গাড়ির অপব্যবহার রোধের দাবি

শুধুমাত্র বড় ইঞ্জিনের কারণেই নয়, সরকারি গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহারের বিষয়টিও এই প্রস্তাবে উঠে এসেছে। আবেদনে বলা হয়, সরকারি গাড়ি প্রায়ই দাপ্তরিক কাজের বাইরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • বাজার করা বা ব্যক্তিগত কেনাকাটায় সরকারি গাড়ির ব্যবহার।
  • কর্মকর্তাদের সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া করা।
  • পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহার।
  • চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইঞ্জিন ও এসি চালু রেখে গাড়িতে বসে থাকার প্রবণতা।

নাগরিক প্রত্যাশা

সচেতন নাগরিক হিসেবে সজীব তাঁর প্রস্তাবের শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন ধাপে ধাপে বড় সিসির সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ১৫০০ সিসি বা হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার চালু করা হয়। পাশাপাশি সরকারি গাড়ির ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করারও দাবি জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু রাষ্ট্রের বিপুল অর্থই সাশ্রয় করবে না, বরং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনবে এবং জনগণের কাছে সরকারের দায়িত্বশীলতার একটি শক্ত ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button