আনোয়ারা ভিজিএফ চাল বিরতণে বিএনপির দলীয় প্রভাবের অভিযোগ, ইউপি সদস্যদের ক্ষোভ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা এ আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে সুবিধাভোগীদের তালিকা নির্ধারণ এবং কার্ড বিতরণে হস্তক্ষেপ করছেন। এতে করে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে চাল বিতরণের জন্য সরকারিভাবে কার্ড দেওয়া হয়। এই কার্ড প্রাপ্যদের বাছাই ও বিতরণের দায়িত্ব সাধারণত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা সরাসরি তালিকা তৈরিতে হস্তক্ষেপ করছেন এবং নিজেদের অনুসারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে কার্ড দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্য জানান, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করার কথা। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যদি দলীয় লোকজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তাহলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে দলীয় প্রভাব দেখিয়ে কার্ড বণ্টনের তালিকা পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা না গেলে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে মোট ১৯ হাজার ২১২টি ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণের কথা রয়েছে। তবে এসব কার্ড বিতরণে কোথাও অনিয়ম বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, ভিজিএফের চাল যেন প্রকৃত দরিদ্রদের হাতে পৌঁছায় এবং কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে বিতরণ হয় সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি জরুরি।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি না করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।



