সিএমপি’র বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগীসহ গ্রেফতার তিন থানার অস্ত্র উদ্ধার

মুহাম্মদ জুবাইর
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)র চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে অদ্য ১০ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ দিবাগত রাতে জেলা পুলিশের এক চৌকস দল চকবাজার, পাঁচলাইশ এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানার এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানের নেতৃত্ব দেন সিএমপি’র সম্মানিত পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম, এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। অভিযানে বিশেষ অংশগ্রহণকারী ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস্), ডিসি (দক্ষিণ), ওসি (চকবাজার) এবং চকবাজার থানা পুলিশের একটি চৌকস দল। অভিযান পরিচালিত হয় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, যার ফলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী রিমন ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চকবাজার থানা এলাকা থেকে একটি বিদেশি রিভলভার (থ্রি টু বোর) এবং ০৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।তদন্তে নিশ্চিত হয় যে, উদ্ধারকৃত রিভলভার ও গুলি সিএমপি’র পাহাড়তলী থানা থেকে পূর্বে লুণ্ঠিত হয়েছিল।

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী রিমন ইমন বহদ্দারহাটে সংঘটিত ০৮ হত্যা মামলার (চান্দগাঁও থানার মামলা নং-০৮(০৭)২০০০, ধারা- ৩০২/১০৯/৩৪ পেনাল কোড) যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। গ্রেফতারকৃত আসামীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিসি (উত্তর), সিএমপি এবং ওসি (পাঁচলাইশ) নেতৃত্বে পাঁচলাইশ থানার একটি দল অদ্য দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে ব্রাজিলিয়ান টরাস (নাইন এম এম) পিস্তল এবং একটি মোটরসাইকেলসহ আসামি মনিরকে গ্রেফতার করে। মনিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ভোরে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে তার সহযোগী সায়েমকে গ্রেফতার করা হয়। সায়েমের দেখানো স্থান থেকে খুলশী থানা এলাকা হতে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন এবং পঞ্চাশ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এসব অস্ত্র ও গুলি খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে মোট দশটি মামলা রয়েছে। তাদের প্রত্যেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছিল। মোঃ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সম্প্রতি চন্দনপুরায় ব্যবসায়ীর বাড়ীতে সংঘটিত গুলির ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী ছিল। গ্রেফতারকৃত আসামিরা শপথ গ্রহণের ভিডিও ক্লিপ এবং অন্যান্য প্রমাণাদির মাধ্যমে সাজ্জাদ গ্রুপের নতুন সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে নির্ধারণ করতো।
উদ্ধারকৃত আলামতসমূহের মধ্যে রয়েছে:
০১টি বিদেশি রিভলভার (থ্রি টু বোর) এবং ০৯ রাউন্ড গুলি
০১টি ব্রাজিলিয়ান টরাস (নাইন এম এম) পিস্তল
০১টি এসএমজি, ০২টি ম্যাগাজিন এবং ৫০ রাউন্ড গুলি
০১টি মোটরসাইকেল
অভিযানের পাশাপাশি ডিবি (পশ্চিম) এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয় পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে। কোতোয়ালী থানার এলাকায় বিশেষ অভিযানে পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: ১। মারুফ হোসেন তুষার (২১), ২। মোঃ বাবু (২৭), এবং ৩। মেহেদী হাসান প্রঃ হাসান (২২)। তাদের হেফাজত থেকে একটি ধামা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানার মামলা নং-২২, ধারা- ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোডে মামলা রুজু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বেও চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে মোট ১৪টি মামলা আছে। সিএমপি এই অভিযানের মাধ্যমে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগীসহ অস্ত্র ও গুলির চেইনকে কার্যকরভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিটি অস্ত্রের ব্যবহার ও সম্ভাব্য অপরাধের সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের অপর সহযোগীদেরও গ্রেফতারের মাধ্যমে পরবর্তী অভিযান অব্যাহত থাকবে।



