জাতীয়তাবাদী চেতনা শানিত করতে জাসাসকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে

মুহাম্মদ জুবাইর
ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ রুখতে সাংস্কৃতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে শানিত করতে জাসাসকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনসমূহ জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক শক্তির প্রকৃত ঠিকানা। এই শক্তিকে সাংগঠনিকভাবে আরও সুসংগঠিত করতে না পারলে ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তি আবারও গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে।
শুক্রবার বিকেলে নগরীর জেলা পরিষদ ভবনে মহানগর জাসাস আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মীর হেলাল বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয়তাবাদী আদর্শ একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। এই আদর্শের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষা করা। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ, জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রসার এবং স্বাধীনতার চেতনাকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জাসাস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই লক্ষ্য ও আদর্শকে সামনে রেখে সংগঠনটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অপকর্মের কারণে বাংলাদেশীয় সংস্কৃতির ওপর নানামুখী আগ্রাসন চালানো হয়েছে। দেশীয় সংস্কৃতির জায়গায় বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। এতে করে তরুণ সমাজের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাসাস শুধু একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়, এটি জাতীয়তাবাদী আদর্শের সাংস্কৃতিক ধারক ও বাহক। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা এবং নগর পর্যায়ে জাসাসকে সংগঠিত করে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে জাগ্রত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে জাতীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগ্রামও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। তাই জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মহানগর জাসাসের আহ্বায়ক লায়ন এমএ মুসা বাবলুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ শিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সংগঠিত ভূমিকা পালন করা জরুরি। দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সাংস্কৃতিক কর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, লায়ন হেলাল উদ্দীন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাসাস দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য মাহবুব রানা, মহানগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি এম রাজ্জাক, দক্ষিণ জেলা জাসাসের সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ, উত্তর জেলা জাসাসের সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম টুটুল এবং মহানগর জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক দৌস্ত মোহাম্মদ।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও উপস্থিত ছিলেন সংগীত পরিচালক খন্দকার সাইফুল ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ জিয়া উদ্দীন, মহিউদ্দিন মহিন, ফজলুল হক মাসুদ, নজরুল ইসলাম তুহিন, মহিউদ্দিন জুয়েল, এস এম তারেক, মোহাম্মদ সালাউদ্দীন, এস বি সুমী, নাহিদ আলম, নাহিদা আক্তার নাজু, কবি জাহিদ কায়সার এবং গোলাম কিবরিয়া শরীফসহ জাসাসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, জাসাসের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীনতার চেতনা তরুণ সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় জাসাস ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।



