আইন-শৃঙ্খলাপ্রশাসন

টঙ্গীর মাজার বস্তিতে মাদকের রাজত্ব: শাহাবুদ্দিন ও ডুবলি সিন্ডিকেট এখনো বেপরোয়া রমা রম ব্যবসা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী:

রাজধানীর উপকণ্ঠ টঙ্গীর মাজার বস্তি, কেরানির টেক এবং ব্যাংকের মাঠ এলাকা এখন মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও টঙ্গীর মাদক সাম্রাজ্যের দৃশ্যপট বদলায়নি। অভিযোগ উঠেছে, শাহাবুদ্দিন এবং সিদ্দিকুর রহমান ডুবলি নেতৃত্বে এই বিশাল মাদক সিন্ডিকেট এখন আগের চেয়েও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও ‘সেল’ ব্যবস্থা:
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাজার বস্তির ভেতরে মাদক কেনাবেচার জন্য সুনির্দিষ্ট ‘সেল’ বা বিক্রয় কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা এবং সশস্ত্র পাহারাদারদের মাধ্যমে এই এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হয়। কিংবাবু নামের এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর সেলে দেখা গেছে অভিনব পদ্ধতি; যেখানে একটি পাইপের মাধ্যমে টাকা ভেতরে পাঠানো হয় এবং ওপর প্রান্ত থেকে মাদক সরবরাহ করা হয়।

সেবন কেন্দ্র ও বিপুল অবৈধ আয়:
বস্তির ভেতরেই রয়েছে মাদক সেবনের নিরাপদ ব্যবস্থা। সেখানে ফয়েল পেপার, গ্যাসলাইটারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য আলাদা জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, প্রতিটি সেল থেকে দৈনিক কয়েক কোটি টাকার মাদক লেনদেন হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যকে মাসিক মাসোহারা দিয়ে এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও নেতৃত্বের পরিবর্তন:
বিগত সরকারের সময় শুরু হওয়া এই বাণিজ্য এখন নতুন মোড় নিয়েছে। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তারকারী শাহাবুদ্দিন এবং সিদ্দিকুর রহমান দুবলির নাম সরাসরি এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক হিসেবে উঠে আসছে। যদিও তারা জনসম্মুখে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন, কিন্তু মাঠ পর্যায়ের তথ্যানুযায়ী তাদের নেতৃত্বেই বর্তমানে টঙ্গীর মাদক সাম্রাজ্য পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যান্য শক্তিশালী সিন্ডিকেট:
মাজার বস্তির বাইরেও আরিফ ও লাইলি বেগম দম্পতি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে মাদকের বড় চালান নিয়ে আসছেন। এছাড়া ব্যাংকের মাঠ এলাকায় ময়না বেগম ও মোমেলা খাতুনের মতো নারী মাদক ব্যবসায়ীদের রাজত্ব চলছে। অন্যদিকে, রেললাইনের পাশের কেরানির টেক ও হিমারদিঘি এলাকায় ট্রেন থেকে মাদক ছুড়ে ফেলার মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক ভূমিকা:
যৌথ বাহিনীর অভিযানের কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও কেন ব্যবসা শুরু হয়, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তার সাথে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীর গোপন বৈঠকের দৃশ্য এই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মূল হোতাদের কাছে সরাসরি মাদক না পাওয়া এবং আদালতে প্রমাণের অভাবে আসামিরা দ্রুত জামিন পেয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই মাদক সিন্ডিকেট নির্মূল করতে হলে কেবল চুনোপুঁটি নয়, শাহাবুদ্দিন ও দুবলির মতো গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় টঙ্গীর এই যুবসমাজ মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে কখনোই মুক্তি পাবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button