রাজনীতি

রাজনীতিতে স্বচ্ছতার অভিনব দৃষ্টান্ত: লাইভে এসে বরাদ্দের হিসাব কষলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ

অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রচলিত ক্ষমতার দাপট ও গোপনীয়তার সংস্কৃতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম তরুণ মুখ ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে নিজ নির্বাচনি এলাকা দেবিদ্বারের জনগণের সামনে সরকারি বরাদ্দের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব তুলে ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন তিনি।

অধ্যাপক এম এ বার্ণিকের এক বিশ্লেষণী নিবন্ধে তরুণ এই নেতার উদ্যোগকে ‘নৈতিকতার অঙ্কের ঝলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

লাইভে তুলে ধরা বরাদ্দের হিসাব

রমজানের এক বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক বক্তৃতা দেননি হাসনাত আবদুল্লাহ; বরং একজন শিক্ষকের মতো অঙ্কের হিসাব কষে জনগণকে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিয়েছেন।

  • খেজুর বরাদ্দ: তিনি জানান, মোট ৩৯ প্যাকেট খেজুর এসেছে, যার প্রতিটিতে ৮ কেজি করে খেজুর রয়েছে। অর্থাৎ মোট খেজুরের পরিমাণ ৩১২ কেজি। এই খেজুরগুলো এলাকার মাদ্রাসাগুলোতে সমবণ্টন করা হবে এবং প্রতিটি মাদ্রাসা ৩ কেজি করে খেজুর পাবে।
  • ভিজিএফ (VGF) চাল বরাদ্দ: চালের বরাদ্দের ক্ষেত্রে তিনি জানান, তার নির্বাচনি এলাকায় মোট ৩,০৮১টি ভিজিএফ কার্ড রয়েছে। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ। অর্থাৎ মোট চালের পরিমাণ ৩০,৮১০ কেজি।

জনগণকে ক্ষমতার অংশীদার করার আহ্বান

হিসাব দেওয়ার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “সবাই হিসাবটা মনে রাখবেন। যাতে করে কেউ কম দিলে বুঝতে পারেন।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি বাক্যের মাধ্যমে তিনি কেবল তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধের পথই তৈরি করেননি, বরং সাধারণ জনগণকে জবাবদিহিতা চাওয়ার সাহস জুগিয়েছেন। ক্ষমতা যে কেবল নির্দেশ দেওয়া নয়, বরং জনগণের কাছে স্বচ্ছ আয়নার মতো নিজেকে তুলে ধরা—সেই শিক্ষাই দিয়েছেন এই তরুণ নেতা।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি

অধ্যাপক এম এ বার্ণিক তার লেখায় উল্লেখ করেন, দুর্নীতি সাধারণত পাহাড় হয়ে জন্ম নেয় না; বরং তা জন্ম নেয় এক মুঠো গোপন হিসাব, একটু চাল কম দেওয়া বা একটু বরাদ্দ গোপন রাখার মধ্য দিয়ে। কিন্তু জনপ্রতিনিধি নিজেই যখন হিসাবের খাতা উন্মুক্ত করে দেন, তখন দুর্নীতির অন্ধকার পথগুলো রুদ্ধ হয়ে যায়।

হাসনাত আবদুল্লাহর দেবিদ্বার উপজেলার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাটি গোটা বাংলাদেশের জন্য একটি মডেল হতে পারে বলে মনে করেন সুশীল সমাজ। বড় কোনো আইন বা রাজপথের বিপ্লব ছাড়াও কেবল ‘সৎ হিসাব’-এর মাধ্যমে যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button