আইন-শৃঙ্খলাপ্রশাসন

কেরানীগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, অনুসন্ধানী সংবাদে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পরিবেশ বিধ্বংসী নিষিদ্ধ পলিথিনের অবৈধ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আনিস নামের এক ব্যক্তি পলি ব্যবসায়ী। সম্প্রতি এ বিষয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক ইস্পাহানী ইমরান ও ফয়সাল হাওলাদারের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আনিসের সঙ্গে আমিনুল ও শুক্কুর নামের আরও দুই ব্যক্তি মিলে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কদমতলী, শুভাঢ্যা, রাজেন্দ্রপুরসহ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে নিষিদ্ধ পলিথিনের একাধিক গোডাউন ও সরবরাহ ব্যবস্থা। এসব এলাকা ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে পলিথিন মজুদ ও বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়ায় সরকার বহু আগেই পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই এসব পলিথিনের বেচাকেনা চলছে এবং দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাসযোগে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কিছু অসাধু সাংবাদিকও ভূমিকা রাখছে। তাদের মধ্যে শাহীন,এশিয়ান টিটু, এনবিপি মাসুম পারভেজসহ আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত অভিযোগ অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে মাসিক ভিত্তিতে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেউ যদি এই অবৈধ পলিথিন ব্যবসা নিয়ে অনুসন্ধান বা সংবাদ প্রকাশ করেন তখন একটি চক্র সক্রিয় হয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনিস, আমিনুল, শুক্কুর ও অভিযোগ ওঠা সাংবাদিকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত করার সাইফুল আলম জানান, অনিয়মের ক্ষেত্রে কোন ব্যবসায়ী বা সাংবাদিককে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে

স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ ধ্বংসকারী এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button