বোয়ালখালীতে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নের নামে অর্থ লুটপাট: অভিযুক্ত ‘ভুয়া মৌলানা’ বশর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, একাধিক প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় সাড়ে দশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও তা বাস্তবে প্রতিষ্ঠানের কোনো কাজেই আসেনি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, ইমামদের ওপর নির্যাতন এবং সরকারি অর্থ লোপাটের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কাগজে-কলমে প্রকল্প, বাস্তবে লুটপাট প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্যানুযায়ী, সারোয়াতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঁচটি ভুয়া বা নামসর্বস্ব প্রকল্পের মাধ্যমে মোট সাড়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো:
- ক্রমিক ১০১৮: খাজা গরীরে নেওয়াজ জামে মসজিদ উন্নয়ন (ইমামুল্লার চর, বেঙ্গুরা) – ২ লক্ষ টাকা।
- ক্রমিক ৫০০: ইমামুল্লার চর মাইমুনা কুদ্দুস শোকরী ফোরকানিয়া মাদ্রাসা উন্নয়ন (সারোয়াতলী ইউপি) – ২ লক্ষ টাকা।
- ক্রমিক ৫০১: ইমামুল্লার চর মাইজভান্ডারিয়া শোকরীয়া বশরীয়া মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানা উন্নয়ন (৭ নং ওয়ার্ড) – ২ লক্ষ টাকা।
- ক্রমিক ৪৮৩: ইমামুল্লার চর মাইজভান্ডারিয়া শোকরিয়া বশরিয়া মাদ্রাসা উন্নয়ন – ২.৫০ লক্ষ টাকা।
- ক্রমিক ৮১২: শোকর আলী শাহ জামে মসজিদ উন্নয়ন (৭ নং ওয়ার্ড) – ২ লক্ষ টাকা।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু এই প্রকল্পগুলোই নয়; জেলা পরিষদ, বোয়ালখালী উপজেলা উন্নয়ন পরিষদ এবং সারোয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের অধীনেও একই নামে একাধিক টিউবওয়েল স্থাপনসহ নানা উন্নয়ন খাতের অর্থ লোপাট হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সচিব শাব্বির ইকবালের দায়িত্ব পালনকালেই এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল।
চাঁদাবাজি ও ‘ভুয়া মৌলানা’র দৌরাত্ম্য এসব অর্থ আত্মসাতের মূল হোতা হিসেবে আবুল বশর শোকরী নামের এক ব্যক্তিকে দুষছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, মাজার ও মসজিদের উন্নয়নের কথা বলে তিনি গ্রামের প্রতিটি পরিবার, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এবং প্রবাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁদা সংগ্রহ করেছেন। এমনকি এলাকার ভ্রাম্যমাণ মাছ, সবজি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিজেকে ‘মৌলানা’ দাবি করলেও আবুল বশরের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আজিজিয়া মাবুদিয়া মাদ্রাসা বা বেঙ্গুরা সিনিয়র মাদ্রাসার কোনো নথিতে তার নাম নেই। উল্টো তার বিরুদ্ধে বোয়ালখালী ও পটিয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইমামদের ওপর নির্যাতন ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসের পর মাস বেতন না দিয়ে উল্টো তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও মারধরের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটিয়েছেন অভিযুক্ত আবুল বশর। জানা গেছে, সম্প্রতি এক ইমাম দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন না পেয়ে বাধ্য হয়ে স্থানীয় সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে সেনাবাহিনী ওই ইমামকে ক্যাম্পে ডেকে বিস্তারিত শোনে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
দিনের পর দিন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে এমন অবাধ লুটপাট ও চাঁদাবাজির ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়রা অবিলম্বে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দুর্নীতি ও আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



