সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জে হামলা-ভাঙচুর, কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডবে আতঙ্কে পরিবার

মো: রাজন পাটওয়ারী,চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা-এর ৬ নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড পূর্ব লাউতলী গ্রামে সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর হামলা, মারধর ও বসতঘর ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার হুমকি দেওয়ার পর অবশেষে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মনির হোসেন ও তার ছেলে মেহেরাজ। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব লাউতলী মিজি বাড়ির বাসিন্দা মনির হোসেন তারেক হোসেনদের কাছ থেকে বৈধভাবে একটি সম্পত্তি ক্রয় করেন। কিন্তু সম্পত্তি কেনার পর থেকেই তারেক হোসেন ও তার ভাই আরাফাত হোসেন ওই জায়গা ভোগদখল করতে দেবেন না বলে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। শুধু তাই নয়, মনির হোসেনের বসতঘরের পাশে থাকা একটি পুকুর ব্যবহার করতেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
মনির হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হলেও তিনি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। কিন্তু গত ১৩ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে লতিফগঞ্জ সিনিয়র মাদ্রাসার সামনে তাকে ও তার ছেলে মেহেরাজকে অতর্কিতভাবে ঘিরে ধরে কয়েকজন যুবক। এরপর তাদের ওপর এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে গুরুতর আহত হন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময় মেহেরাজের গলা চেপে ধরে হত্যারও চেষ্টা করা হয়। এ সময় মনির হোসেনের ভাই জাহিদ হোসেন এগিয়ে এসে তাদের রক্ষা করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে যান।
কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি হামলার ঘটনা। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, পরদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তারেক হোসেন আবারও ১০ থেকে ১২ জনের একটি কিশোর গ্যাং নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মনির হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাদের হাতে ছিল চাইনিজ কুড়াল, বঁটি ও দা। তারা বসতঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।
সেই সময় ঘরের ভেতরে থাকা মনির হোসেনের স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের রক্ষা করেন। পরে এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ৯ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত তারেকের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এলাকার প্রায় ৩০০ জন মানুষ একত্র হয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারেক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির পাশাপাশি তিনি ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে ভিডিও ধারণ করেন এবং পুকুরে গোসল করতে যাওয়া নারীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, এর আগেও পরকীয়ার অভিযোগে একবার তাকে হাতেনাতে আটক করে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ ঘটনায় মনির হোসেন ফরিদগঞ্জ থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্তমানে বিষয়টি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এমন ঘটনায় যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।



