পটিয়ায় কিশোর হত্যা মূল আসামি গ্রেফতার,আদালতে স্বীকারোক্তি

মুহাম্মদ জুবাইর
পটিয়া থানাধীন এলাকায় সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের শোভনদন্ডী ইউনিয়ন এলাকায় গত ১৫ মার্চ ২০২৬ বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মহিষ চড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জেরে কুরানগিরি এলাকার বাসিন্দা মোঃ হাসান বাবু (১৬)-কে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে গলাচেপে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা মরদেহ ঘটনাস্থলের পাশের একটি খালের ঢালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) নোমান আহমদ, পিপিএম এর দিকনির্দেশনায় পটিয়া থানা এর অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউল হক এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৬ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে** মামলার মূল আসামি মোঃ জয়নাল আবেদীন ওরফে লিমন (২০)-কে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিসহ মোট ৫ জন এজাহারনামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে পটিয়া থানা এ মামলা নং-১৬, তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।



