
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) এক নারী লেকচারারের বিরুদ্ধে ফলাফল কারচুপি, শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নীতিবহির্ভূত আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক আফসানা মেহেরুন আইনির বিরুদ্ধে অন্তত ১৮ জন শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ:
শিক্ষার্থীদের দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধানত তিনটি অভিযোগ উঠেছে: ১. একাডেমিক বৈষম্য: ফলাফল প্রদানে চরম পক্ষপাতিত্ব এবং নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ। এমনকি নিয়ম মেনে ডিন বরাবর আবেদন করায় শিক্ষার্থীদের ‘শাস্তি’ হিসেবে ফলাফল আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। ২. পেশাগত অসদাচরণ: কিছু নির্দিষ্ট ছাত্রকে নিয়ে বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ভ্রমণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ৩. ব্যক্তিগত অস্থিরতা ও হুমকি: ব্যক্তিগত ও পারিবারিক টানাপোড়েনের জেরে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বক্তব্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রতিবেদককে বিভিন্ন নম্বর থেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন আলমগীর হোসেন জানান, “১৮ জন শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। এর প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রফিকুজ্জামান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো দাপ্তরিকভাবে পুরোপুরি অবগত নন। তবে লিখিত প্রতিবেদন হাতে পেলে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ধামাচাপার চেষ্টা ও বর্তমান পরিস্থিতি
এদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, সত্যতা পাওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ মহল পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক আফসানা মেহেরুন আইনির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



